ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল কলেজছাত্রের লাশ

http://www.dhakatimes24.com/2018/06/12/84735/নিখোঁজের-তিন-দিন-পর-মিলল-কলেজছাত্রের-লাশ
BYনোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর কামরুল ইসলাম সাগর নামে এক কলেজছাত্রের অর্ধগলিত গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিকাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মধ্য চরবাটা হাজী মোজাম্মেল (মুজা মাঝির) বাড়ির পাশের একটি নালা (গর্ত) থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত কামরুল ইসলাম সাগর ওই গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে ছিলেন। তিনি সৈকত ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

আটকরা হচ্ছেন, নিহত সাগরের প্রেমিকা ও একই বাড়ির রহমত ব্যাপারীর মেয়ে মমতাজ আক্তার, রহমতের স্ত্রী হাছিনা বেগম, একই এলাকার মনোরঞ্জন দাসের ছেলে মিন্টু রঞ্জন দাস এবং রফিক উল্যার ছেলে মো. মাসুদ।

স্থানীয়রা জানায়, ৮ জুন রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কামরুল ইসলাম সাগর। এরপর থেকে তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রামের হাজী মোজাম্মেল (মুজা মাঝির) বাড়ির পাশের একটি গর্তের মধ্যে সাগরের গলাকাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ভাই শিমুল জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি সাগরের ব্যবহৃত মোবাইলে কল দিলে সাগর ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সাগরের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা নূর ইসলাম অভিযোগ করেন, একই বাড়ির তার চাচাতো ভাই রহমত ব্যাপারীর মেয়ে মমতাজ আক্তারের সাথে সাগরের প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে রহমত ব্যাপারী ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও স্থানীয় মিন্টু রঞ্জন দাসকে দিয়ে তার ছেলেকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রহমত ব্যাপারীর মেয়ে মমতাজ আক্তারের সাথে দীর্ঘদিন থেকে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তাদের দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। কিন্তু কিছুদিন আগ থেকে মমতাজ আবার সাগরের চাচা নূর আলমের দোকানের কর্মচারী মিন্টু রঞ্জন দাসের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় মিন্টুর সাথেও সাগরের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাগর নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাই শিমুল বাদী হয়ে রবিবার থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে ওইদিন অভিযান চালিয়ে মিন্টু, মাসুদ, মমতাজ ও হাছিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের গলায় কাটার দাগ রয়েছে। লাশটি অর্ধগলিত হওয়ায় শরীরের অন্য কোন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।

(ঢাকাটাইমস/১২জুন/প্রতিনিধি/এলএ)