ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

ব্যাংকে ব্যাগ কেটে টাকার নেয়ার ১০ দিন পর ভিডিও ফুটেজ দেখে পকেটমার শনাক্ত করে তাদের পুলিশে দিয়েছে মুকসুদপুর অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার পকেটমার এক সদস্য ব্যাংকে এলে তাকে কৌশলে ব্যবস্থাপকের রুমে ডেকে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়। এসময় ব্যাংকের বাইরে অপেক্ষামান অপর দুই পকেটমারকে ডেকে নিয়ে ব্যবস্থাপকের রুমে আটকে পুলিশে খবর দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হান্নান মোল্যা (৬৫), আবু মুছা (৩৫), লোকমান শেখ (৪০)।

মুকসুদপুর অগ্রণী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গত ২ অক্টোবর দুপুরে এক পেনশন ভোগী ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তোলে। টাকার বান্ডিলে কিছু ছেড়াকাটা নোট পাল্টানোর জন্য পুনরায় ক্যাশ কাউন্টারে যায়। এসময় ব্যাংকের সোফায় বসা ৩ পকেটমার কৌশলে ওই পেনশন ভোগীর ব্যাগ ব্লেড দিয়ে কেটে ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল নিয়ে পলিয়ে যায়। বিষয়টি পেনশন ভোগী আমাকে জানায়। ততক্ষণে তারা টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়। পরে ব্যাংকের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পকেটমারদের শনাক্ত করা হয়।

পকেটমার দলের তিন সদস্যের একজন বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকের সোফায় এসে বসে। ওই সময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আমার রুমে বসায়। তারপরে অপর ২ সদস্যকে বাইরে থেকে কৌশলে ব্যাংকের মধ্যে ডেকে আনে। প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ভিডিও ফুটেজ দেখালে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

এরপরে মার হওয়া টাকা উদ্ধার ও অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুকসুদপুর থানা পুলিশকে ডেকে তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, গ্রেপ্তারদের সাথে কথা বলে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। আটকদের মাধ্যমে অন্য সদস্যদের মোবাইল ট্রাকিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো গ্যাংকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিত্বে পুলিশ বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশা করি, দ্রুত সময়ে অন্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। গ্রেপ্তারদের রাতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

(ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)