ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
BYভোলা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলার পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আজ শনিবার রাত ৮টা থেকে ১২টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ভোলায় আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পেতে ভোলার ৬৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত প্রায় সোয়া লাখ মানুষ ঠায় নিয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ সংখ্যাটি দুই লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার যেসব বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাইছে না তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ভোলার কলাতলি, চর নিজাম, ঢাল চর, কুকরি-মুকরি, হাজিপুর, মদনপুরসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ট্রলার যোগে মূল ভূখণ্ডে আনা হচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করে যাচ্ছেন।

বিকাল তিনটায় জেলা প্রশাসক সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি সভা করেন। সেখানে ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন দপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আজ রাত ৮টা থেকে ১২টার মধ্যে ভোলায় আঘাত হানতে পারে। ইতিমধ্যে ভোলার প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে, বিকাল নাগাদ তা ২ লাখ অতিক্রম করবে।

আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার (চিড়া-মুড়ি) বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা খিচুড়ি রান্না করছে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য। এখানে আসা লোকজনের জন্য সকাল, দুপুর এবং রাতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা যত দিন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকবে তিন বেলা খাবার দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

ভোলার ৩৯টি মুজিব কেল্লায় গবাদি পশু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে যাতে একজন মানুষ কিংবা একটি পশুরও প্রাণহানি না ঘটে সেদিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে। আমরা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এড়াতে নৌ, বিমান ও সেনাবাহীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজেন তারাও আমাদের সহযোগিতা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’

এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। সেখান থেকে মানুষ ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে বিভিন্ন সেবা ও বিভিন্ন তথ্য জানাতে পারছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেয়া এবং তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যারাও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুল ইসলাম।

জেলা স্কাউটসের কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, স্কাউটসের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী গতকাল থেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ও মানুষকে সতর্ক করে নিরাপদ আশ্রয়ে আনার কাজ করছেন তারা।

(ঢাকাটাইমস/৯নভেম্বর/মোআ)