ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আশুলিয়ায় যুবলীগের পাঁচ কর্মীকে পিটিয়ে জখম

https://www.dhakatimes24.com/2019/11/09/140993/আশুলিয়ায়-যুবলীগের-পাঁচ-কর্মীকে-পিটিয়ে-জখম
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)

ঢাকার আশুলিয়ায় ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার জেরে দুই যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টাসহ অন্তত তিনজনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জামাতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়া ও বাবু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার আশুলিয়া থানায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জামাতা রুবেল আহমেদ ভূইয়াকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী রিপন মিয়ার স্ত্রী চায়না বেগম। এ ঘটনায় উজ্জ্বল ভূইয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে ভোর রাত ৩টার দিকে আশুলিয়ার বেরন এলাকার ক্রিয়েশন গার্মেন্টসের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহম্মেদ ভূইয়ার মেয়ের জামাতা রুবেল আহম্মেদ ভূইয়া, জামগড়া ভূইয়াপাড়া এলাকার উজ্জ্বল ভূইয়া, নাজমুল হক ইমু, ময়না মোল্লা, সম্রাট, সুমন মীরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আশুলিয়া থানা যুবলীগের ব্যানারে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে থানা যুবলীগের সম্মানহানি করে আসছিল। এ ঘটনায় থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি অপপ্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ফেস্টুন খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই মোতাবেক শুক্রবার রাতে যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়া, ফারুক, শিপু, রিপন, বাবু ও নয়ন ইয়ারপুর ও জামগড়া এলাকায় অপপ্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ফেস্টুন খুলে পিকআপ গাড়িতে করে জামগড়া হতে নরসিংহপুরের দিকে যাচ্ছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে রাত তিনটার দিকে অপপ্রচারকারী ঝুট ব্যবসায়ী রুবেল আহম্মেদ ও তার বাহিনীর লোকজন যুবলীগ কর্মীদের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যার উদ্দেশে কুপিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গুরুতর আহত যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়ার স্ত্রী বলেন, শুক্রবার রাতে ঝুট ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রুবেল আহম্মেদ ভূইয়া আমার স্বামী রিপনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কোপ দিলে তার মাথা কেটে মগজ বের হয়ে আসে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় রুবেল আহম্মেদ ভূইয়া তাকে পারা দিয়ে ধরলে উজ্জ্বল ভূইয়া হাতুরি ও ব্যানারের পেরাকযুক্ত কাঠ দিয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।

এছাড়া ময়না মোল্লা নামে আরেকজন রিপনের সঙ্গী বাবুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ও অন্যদের রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রিপন মিয়া ও বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রুবেল ভূইয়া তার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে জানান।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, যুবলীগ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/৯নভেম্বর/এলএ)