ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

বিদ্যুতের খুঁটিতে মাইক্রোর ধাক্কা, প্রাণ গেল তিনজনের

https://www.dhakatimes24.com/2020/01/18/148800/বিদ্যুতের-খুঁটিতে-মাইক্রোর-ধাক্কা-প্রাণ-গেল-তিনজনের
BYযশোর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

যশোরে বিয়ের আলোকসজ্জা দেখে বাড়ি ফেরার সময় বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নববধূসহ একই পরিবারের তিন নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে শিশুসহ চারজন। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশ নিহত নববধূর স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতিকে (২৮) আটক করেছে। তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না তাও পরীক্ষা করছে পুলিশ।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের পুরাতন কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন যশোর শহরের ঢাকারোডের বিসিএমসি কলেজ এলাকার ইয়াসিন আলীর মেয়ে ও আদদ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী নববধূ তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসা (২৫), তার বোন তানজিলা ইয়াসমিন (২৮) ও খালাত ভাই মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী (২৬)।

দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পিয়াসার স্বামী; শহরের লোন অফিসপাড়ার এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (২৮), খালাত ভাবী তাবাসসুম তিথীর মেয়ে মেয়ে মানিজুর (৩), জ্যেতির বন্ধু শাহিন হোসেন (২৩) ও হৃদয় (২৮)।

নিহত পিয়াসার চাচাত ভাই আব্দুল করিম জানান, গাড়ির চালক শফিকুল ইসলাম জ্যোতির সঙ্গে তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসার (২৫) দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াসাকে তাদের তুলে নেয়ার কথা। এ কারণে জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়। পিয়াসা রাতে ফোন করে জ্যোতিকে জানান, তারা আলোকসজ্জা দেখবেন এবং শহর ঘুরবেন। এ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জ্যোতি তার নিজস্ব প্রাইভেটটি নিয়ে বের হন। গাড়িতে পিয়াসার বোন তানজিলা ইয়াসমিন ও পিয়াসার খালাত ভাবী আফরোজা তাবাসসুম তিথী, তার মেয়ে মানিজুর, জ্যোতির বন্ধু শাহিন হোসেন ও হৃদয় ছিলেন। তারা আলোকসজ্জা দেখে শহরে তাদের স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পালবাড়ি এলাকা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে শহরের পুরাতন কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের (আকিজের গলি) পাশে থাকা একটি বিল্ডিংয়ের প্রাচীর ও বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করে গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গাড়িতে থাকা অন্যরা কমবেশি আহত হন। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, জ্যোতি আগে থেকেই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে অভ্যস্ত। কখনো কখনো মদ্যপ অবস্থাতেও তিনি গাড়ি চালান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শফিকুল ইসলাম জ্যোতির এক পরিচিত ব্যক্তি বলেন, জ্যোতি গাড়ি চালান খুব বেপরোয়াভাবে। একই কথা বলছেন শহরের আর এন রোডের এক মোটরপার্টস ব্যবসায়ী। দুর্ঘটনার জন্য তিনি জ্যোতিকে অভিযুক্ত করেছেন। আর আহতরাও বলছেন, প্রাইভেটের গতি অনেক বেশি ছিল। জ্যোতিকে ধীরে গাড়ি চালাতে অনুরোধ জানালেও তিনি কথা শোনেননি।

ধারণা করা হচ্ছে গাড়ির গতিবেগ ছিল ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি ছিল। যার ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন জ্যোতি।

যশোর কোতোয়ালী থানার ইন্সপেক্টর শেখ তাসমীম আলমও বলেন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিহত পিয়াসের স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতিকে আটক করা হয়েছে। মাদকাসক্ত ছিলেন কি না তা পরীক্ষার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মাদকাসক্তের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮জানুয়ারি/ইএস/জেবি)