ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

পর্যাপ্ত সরঞ্জাম-লোকবল নেই সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে

https://www.dhakatimes24.com/2021/01/22/199767/পর্যাপ্ত-সরঞ্জাম-লোকবল-নেই-সাতক্ষীরা-শিশু-হাসপাতালে
BYবেলাল হোসাইন,সাতক্ষীরা

জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে পর্যাপ্ত লোকবল, সরঞ্জাম এবং সরকারি বরাদ্দ না থাকায় বলে জানিয়েছেন অনেকে। ফলে,হাসপাতালটিতে শিশু চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানান তারা।

বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ২৫০টি শয্যা রয়েছে। নির্মিত হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ। কিন্তু এ জেলার শিশুদের চিকিৎসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল। হাসপাতালটি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান নিজ জেলার শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সঠিক তদারকি এবং সরকারি বরাদ্দ না থাকায় হাসপাতালটিতে শিশু চিকিৎসাসেবা ব্যহত হচ্ছে। হাসপাতালটির পরিবেশও যথেষ্ট নোংরা। অনেক সময় শিশুদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভবনে কোথাও কোথাও ফাটলও দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালটি ৩০টি শয্যা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে এর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫০। কিন্তু প্রতিদিন এখানে ১৫০ থেকে ২০০ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এক্ষেত্রে যাদের বাড়ি কাছাকাছি তাদের ভর্তি রাখার মত হলেও শয্যা সংকটের কারণে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হয়। আবার ৫০টি বেড থাকলেও আমরা ৭০ জনের মত রোগী ভর্তি রাখি। কিন্তু রাখার প্রয়োজন আরো বেশি হলেও শয্যা সংকট এবং ভবনের ধারণক্ষমতা কম থাকায় সম্ভব হয়না। এছাড়া হাসপাতালে আধুনিক সরঞ্জাম নেই। বিশেষ করে প্যাথলিক ল্যাবটি খুবই পুরাতন। অটো অ্যানালাইজার সার্ভিস ভালো নেই, ফটোথেরাপি, আধুনিক কিউবেটর, ভেইন ফাইন্ডার, খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। যে শয্যাগুলো রয়েছে তার অবস্থাও খুবই খারাপ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী আবুল বাসার আরমান বলেন, শিশু চিকিৎসার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিশেষ করে শীতকালে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এখানে আসে। ফলে এখানে রোগীদের চাপ বাড়ে। প্রয়োজনীয় লোকবল, আধুনিক সরঞ্জামাদি না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। গত বছরের তুলনায় এবছর চাপটা অনেক বেশি। শিশুরা শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তবে এবার ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ বলেন, শীত মৌসুমে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ফলে এখানে রোগীর চাপ বাড়ে। কিন্তু সে তুলনায় হাসপাতালটির কোন উন্নয়ন হয়নি। সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে হাসপাতালটির দ্রুত উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।

হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির (সিলেকশনে) সাধারণ সম্পাদক জামান খান বলেন, লাল ফিতায় আটকা পড়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির এখন নাজুক অবস্থা। বরাদ্দ তো নেই। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন সুনজর না থাকায় সাতক্ষীরার একমাত্র শিশু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ওসমান গণি বলেন, সাতক্ষীরায় শিশুদের চিকিৎসায় এটি একমাত্র প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং লোকবল নেই। এতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালটিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে আধুনিকায়ণ করার দাবি জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, এখানে আসলে কোন বরাদ্দ নেই। তারা নিজেরা আয় করে নিজেরাই চলে। তারপরও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/পিএল)