ঢাকা, রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মহাপরিকল্পনা সংশোধন করতে খরচ ১৯ কোটি টাকা

https://www.jagonews24.com/country/news/539275
BYনিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) মহাপরিকল্পনা সংশোধনেই যাচ্ছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। যদিও নগর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সিটি করপোরেশন। এ নিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকও করেছে নগর সংস্থা। তবে রাসিকের সেই পরিকল্পনা বেশিদূর অগ্রসর হয়নি।

আরডিএ কর্তৃৃপক্ষের দাবি, আদর্শ নগরায়ণের জন্য ২০ বছর (২০০৪-২০২৪) মেয়াদি এ মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তাদের পরিকল্পনাই দেশ সেরা।

আরডিএ জানিয়েছে, ওই মহাপরিকল্পনায় পদ্মা নদীর চরসহ এর আয়তন নির্ধারণ করা হয় ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার। আর চর ছাড়া ৩০০ বর্গকিলোমিটার। পরিকল্পনা গ্রহণের সময় নগরের মোট আয়তনের ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ জলাশয় ছিল।

কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব ছিল, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখা ও অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রয়োজনীয় পানির উৎসস্থল এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ জলাশয় (পুকুর) সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু দু-একটি ছাড়া সব পুকুরই ব্যক্তি মালিকানাধীন। আরডিএর মহাপরিকল্পনাঅনুযায়ী এ পুকুরগুলোর শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। আবার তারা নিজেরাও এ পুকুর রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ফলে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ দিকে, ২০২৪ সালে এ মহাপরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিগত ২০ বছরে দ্রুতই হয়েছে নগরায়ন। তাই মহাপরিকল্পনা রিভিউ করা হচ্ছে আরও ১০ বছরের জন্য। আর এজন্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। বাড়তি খরচায় কাজও শুরু হয়েছে বছর দেড়েক আগে। এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে আরডিএ।

অন্যদিকে রাসিক জানিয়েছে, তারা যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে সেটি অন্তত ২৫ বছর মেয়াদি। নগর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য বসবাসের জন্য শান্তিপূর্ণশহর গড়া। এজন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। তবে রাসিকের আলাদা পরিকল্পনা নেয়ার দরকার নেই বলে মনে করছেন আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আাজাদ। তার ভাষ্য, সিটি করপোরেশনের নতুন পরিকল্পনা থাকলে সেটি তারা আরডিএকে জানাতে পারে। তাদের প্রস্তাবগুলো আরডিএর সংশোধিত মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

কিন্তু আরডিএর কর্মকর্তার বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা নিয়েই আমরা মহাপরিকল্পনা নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য যানজটমুক্ত বসবাসেরর জন্য শান্তিপূর্ণ শহর গড়া। এর বিকল্পও নেই।

তিনি যোগ করেন, আরডিএ সরকারের বিপুল টাকা খরচ করে মাত্র ১০ বছরের জন্য মহাপরিকল্পনা করছে। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এজন্য তাদের অন্তত ২৫ বছরের জন্য মহাপরিকল্পনার কথা আমি বলেছি। তারা হয়তো সেটি করবে।

জানতে চাইলে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, শিগগিরই রাসিক এলাকার পরিধি বাড়বে। তাই পরিপাটি শহর গড়তে আমরা নতুন মহাপরিকল্পনার কথা ভাবছি। এজন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপও হয়েছে। কিন্তু পরে তারা আর এগোয়নি। তবে রাসিক পরিকল্পনা থেকে সরেও আসেনি।

ফেরদৌস/এমএএস/এমএস