ঢাকা, রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

সুনামগঞ্জে ইমন হত্যা মামলার রায়ের নথি উচ্চ আদালতে

https://www.jugantor.com/country-news/143625/সুনামগঞ্জে-ইমন-হত্যা-মামলার-রায়ের-নথি-উচ্চ-আদালতে
BY  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
সুনামগঞ্জে নিহত স্কুলছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমন। ছবি: যুগান্তর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমন হত্যা মামলায় ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশসহ সম্পূর্ণ নথি সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার নথিপত্র রেজিস্ট্রার দফতরে পৌঁছেছে বলে আদালতের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সিলেটের দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারামতে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পত্র ইস্যু করেন। এছাড়া বিচারক মামলার রায়ের নথি সুনমাগঞ্জ আদালতেও পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মামলার রায়ের সব নথিপত্র উচ্চ আদালতে ও সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

হত্যা, অপহরণ ও লাশ গুমের অভিযোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত ওই শিশু হত্যা মামলায় চার আসামির ফাঁসির আদেশ দেন সিলেটের দ্রত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম।

ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ছাতকের ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণজুলিয়া গ্রামের মৃত মখলিছ মিয়ার ছেলে, বাতিরকান্দি মসজিদের ইমাম শুয়াইবুর রহমান সুজন, বাতিরকান্দি গ্রামের আবদুল মুক্তাদিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক ও নোয়ারাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বাতিরকান্দি গ্রামের আবদুস ছালামের ছেলে জাহেদুর রহমান ও একই গ্রামের আব্দুল কবিরের ছেলে সালেহ আহমদ। এরমধ্যে সালেহ আহমদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১/৩৪ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র ইমনকে অপহরণ করা হয়।

ওইদিন বিকালে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। মুক্তিপণের ২ লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে।

তিন বছর ১১ মাস পর ৪ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল্যকর ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায় দ্রত কার্যকর হবে এমন প্রত্যাশা করেছেন মামলার বাদী ও নিহত ইমনের বাবা জহুর আলী।