ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ফরিদপুরে যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা

https://www.jugantor.com/country-news/49454/অভ্যন্তরীণ-কোন্দলে-ফরিদপুরে-যুবলীগ-নেতার-বাড়িতে-হামলা
BY  ফরিদপুর ব্যুরো ১৬ মে ২০১৮, ২১:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
ফরিদপুর ম্যাপ অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে জেলার সালথা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

হামলাকারীরা বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন দিয়ে দুটি ঘরের মালামাল পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা বাড়ির মহিলাদের লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাদল হোসেনের সালথা বাজার এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে বাদল হোসেনের বাড়ির সামনে পুলিশের পাহারা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বেশকিছু দিন ধরে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেনের বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে সাব্বির চৌধুরীর কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বাদলের বাড়িতে।

হামলাকারীরা তিনটি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। দুটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের ঠেকাতে গেলে বাড়ির কয়েকজন নারী লাঞ্ছিত হয়। হামলাকারীরা দুটি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের ভূমিকার কারণে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সাব্বির চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র লোকজন বাড়িতে হামলা চালায়। ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা ঘরে আগুন দেয় এবং লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সাব্বির চৌধুরী হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, কারা বাদলের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি কিংবা আমার লোকজন হামলার সঙ্গে জড়িত নই।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বড় ছেলে আয়মান আকবর বাবলু চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন বাদল। অন্যদিকে উপনেতার ছোট ছেলে লাবু চৌধুরীর সমর্থক হচ্ছেন সাব্বির চৌধুরী।

বাবলু চৌধুরী সংসদ উপনেতার এপিএস থাকাকালীন সময়ে সাব্বির চৌধুরী কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন। বাবলু চৌধুরী এপিএস থেকে সরে যাওয়ার পর এবং লাবু চৌধুরী স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরার পর বাদল হোসেনের গ্রুপটি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। একসময় বাদল হোসেন বাধ্য হন এলাকা ছাড়তে। এরই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায় বাদলের বাড়িতে।

সালথা থানার ওসি ডি এম বেলায়েত হোসেন বলেন, হামলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে সেখানে গিয়ে তেমন কিছু দেখিনি। কেউ এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা যাবে। বর্তমানে বাদল হোসেনের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।