ঢাকা, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫

গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করুন : প্রধানমন্ত্রী

http://www.ntvbd.com/bangladesh/181457/গ্রামীণ-অর্থনীতিতে-বিনিয়োগ-করুন:-প্রধানমন্ত্রী
BYবাসস
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:২৯ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৫২
ইফাদ এর ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার ইতালির রোমে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ)-এর ৪১তম পরিচালনা পরিষদের সভার উদ্বোধনী অধিবেশনের মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় এবং বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা ছাড়া এটি অর্জন করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে উন্নয়ন সহযোগীদের আরো একটু উদার হতে হবে।’

অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ফ্রাজিলিটি টু লং টার্ম রেসিলেন্স : ইনভেস্ট ইন সাসটেইনেবল রুরাল ইকোনোমি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সহায়তা অব্যাহত থাকার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে ইফাদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইফাদ এর সহায়তার ও সহযোগিতার মডেলটি জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা থেকে অনেক ভিন্ন। ইফাদ এর এই মডেলটি মানবতায় এখনকার মতে অনাগত দিনগুলোতেও কাজ করে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা স্থাপন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না। গ্রামীণ সামাজিক ও জলবায়ুগত স্থিতিশীলতার উন্নয়নে একটি ব্যাপকভিত্তিক টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি প্রয়োজন।’

শেখ হাসিনা টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি তৈরিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদীভাবে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে সুশাসন থাকায় বাংলাদেশ ভাগ্যবান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সতর্কতার সঙ্গে চার বছরের আর্থসামাজিক প্রবৃদ্ধি হিসেব করে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করেছি এবং গত নয় বছর ধরে এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনা করে চাহিদা ও প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৯ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে এবং এর অর্ধেক হবে মধ্যবিত্ত। এর ফলে বিশ্বের আবাদী জমি, বনভূমি এবং পানির ওপর প্রবন্ড চাপ পড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে অনেক দেশের আবাদী জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ছাড়াই আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংকটের মোকাবেলায় বাংলাদেশীরা আস্থার সঙ্গে শক্তভাবে লড়াই করে সমস্যার সমাধান এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উপায় গ্রহণের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং চলতি বছর অসময়ে বার বার বন্যার কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘এই ঘাটতি মোকাবেলায় গ্রাহকদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাথে সাথেই খাদ্য আমদানি নীতি গ্রহণ করা হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নোট রাখতে পারেন যে, আমরা খাদ্য উৎপাদন ১৯৭১ সালের ১১ মিলিয়ন টন থেকে ২০১৭ সালে ৩৯ মিলিয়ন টনে উন্নীত করেছি। যদিও এসময় এক-তৃতীয়াংশ আবাদী জমি হারিয়েছি।’

২০০৮ সালে খাদ্য উৎপাদন ৯ মিলিয়ন টন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি সম্ভব হয়েছে সরকার কৃষকদের বিপুল ভর্তুকি, সহজ শর্তে ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদানসহ কৃষকদের কাছে কৃষি উপকরণ পৌঁছানের কারণে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বাংলাদেশ উর্বর ভুখন্ড হিসেবে পরিচিত যেখানে সব ধরনের কৃষিপণ্য সহজেই উৎপাদিত হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্টাকালে দেশ কঠিন খাদ্য ঘাটতির মুখে পড়ে। তখন দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন হতো মাত্র এক কোটি দশ লাখ টন।স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশেকৃষি উৎপাদন কৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং দেশে সবুজ বিপ্লব এর ডাক দেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলমান গ্রামীণ রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা হবে, যার মাধ্যমে অকৃষিখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ গতিশীলতা এবং গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ আমাদের পণ্য হিসেবে জিওলজিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন সার্টিফিকেট পেয়েছে। আমরা মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বের ৪র্থ স্থানে রয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচিতে সরকার ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়াও তাঁর সরকার ৭৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে বরাদ্দ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১০-১১ অর্থবছরে সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প চালু করে, যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক জীবিকা এবং পরিবারিক খামারের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে।’