ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৭

ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ধর্ষণ : জামিন পেলেন সেই রুহুল আমিন

https://www.ntvbd.com/bangladesh/243525/ধানের-শীষে-ভোট-দেওয়ায়-ধর্ষণ-:-জামিন-পেলেন-সেই-রুহুল-অামিন
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০২ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮:৩৪

রুহুল অামিন। ছবি : সংগৃহীত গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে নোয়াখালীতে গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামি রুহুল আমিনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ২৫ মার্চ এ বিষয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

জামিন পাওয়া রুহুল আমিন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ধর্ষণের আসামি হওয়ার পর তাঁকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে। তিনি চর জুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

গত সোমবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান রুহুল আমিন। বৃহস্প্রতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে সুবর্ণচরে রুহুল আমিন ও তাঁর লোকজন স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ওঠে দেশজুড়ে।

রুহুল অামিনকে জামিন দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়। আগামী ২৫ মার্চ চেম্বার আদালেত তার শুনানি হতে পারে।

কোন যুক্তিতে আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে বলেছেন যে, মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) রুহুল আমিনের নাম নাই। তাছাড়া মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এসব বিষয় তুলে ধরে জামিন চাওয়া হয়েছে।’

বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আসলে আসামির আইনজীবী রাষ্ট্রপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছেন। জামিন আবেদনে উল্লেখ আছে এনএক্স-১৭ নম্বর কোর্টের কথা। অর্থাৎ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য ফাইল হয়েছে। ফলে আবেদনটির অনুলিপি গেছে ওই কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে।’

‘যেদিন জামিন হয় সেদিন আসলে আমরা বুঝতেই পারিনি, কার জামিন হয়েছে।’

আদালতে রুহুল আমিনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. আশেক-ই-রসুল।

হাইকোর্ট আসামিকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি রুলও জারি করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অভিযুক্ত রুহুল আমিনের জামিন কেন বাড়ানো হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। চার সপ্তাহের মধ্যে তার জবাব দিতে হবে। আলোচিত এই মামলায় রুহুল আমিনসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই গৃহবধূর স্বামীর করা এই মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছিল। রুহুল আমিনকে আসামি করতে না পারায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ওই নারী। পরে রুহুল আমিনকেও আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।