ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৭

রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ, সিম আসছে মিয়ানমার থেকে

https://www.ntvbd.com/bangladesh/273327/রোহিঙ্গাদের-মোবাইল-ফোন-নিয়ন্ত্রণ,-সিম-আসছে-মিয়ানমার-থেকে
BYইকরাম চৌধুরী টিপু
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৩ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:১০

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমারের ২১০টি মোবাইল সিমসহ আটক তিন রোহিঙ্গা যুবক। ছবি : এনটিভি রাতের বেলা রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পদক্ষেপ নেওয়ার পর মিয়ানমার থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিম শরণার্থী শিবিরগুলোতে আসছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে সিম নিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকায় এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর কাছ থেকে ২১০টি মোবাইল ফোনের সিম উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, এসব সিম কিউএমপিটি নামে মিয়ানমারের একটি কোম্পানির। এসব সিম উচ্চ নেটওয়ার্ক সম্পন্ন হওয়ায় সহজে উভয় দেশের সীমান্তের অনেক ভেতরে কাজ করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা নুর হাসান (২৪), উখিয়ার থাইংখালী জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরের রবি আলম (১৯) ও টেকনাফের মোচনী শিবিরের সলিম (২৫)। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে স্থলবন্দরের ফটক অতিক্রমের সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীরা মোবাইল সিমসহ মিয়ানমার থেকে আসা ট্রলারের শ্রমিক সলিমকে আটক করেন। এ সময় তাঁর দেহ তল্লাশি করে মোবাইল সিমগুলো উদ্ধার করা হয়।

সলিমের কাছ থেকে সিম নেওয়ার জন্য ফটকের বাইরে শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা রবি আলম অপেক্ষা করছিলেন। তাঁকেও আটক করা হয়। পরে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই ট্রলারের মাঝি নুর হাসানকেও আটক করে পুলিশ।

এ সময় স্থলবন্দরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা পুলিশে খবর দিলে থানা পুলিশের একটি দল ওই রোহিঙ্গা যুবকদের থানায় নিয়ে যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার পদক্ষেপ নেয়। এরই অংশ হিসেবে রাতের ১৩ ঘণ্টা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে থ্রিজি ও ফোর জি সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর ফলে ক্যাম্পের বাসিন্দারা মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারলেও তাদের পক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কোনো ভিডিও কল করা বা ভিডিও দেখা প্রায় অসম্ভব। এই কারণেই রোহিঙ্গাদের একটি চক্র মিয়ানমার থেকে মোবাইলের সিম এখানে আনতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।