ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫
BYমাসুদ রানা, গাজীপুর
১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৪৮

গাজীপুর শহরের নাওজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের একাংশে দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে নোংরা পানি ও আবর্জনা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

শহরের নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয়টির অবস্থান। বিদ্যালয়টিতে আছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে মাঠের একাংশে এভাবে পানি জমে আছে। এই পানি এসেছে আশপাশের বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বাজার থেকে।

দেখা যায়, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে অফিস ভবন, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে আধা পাকা শ্রেণিকক্ষ। পূর্ব পাশে হাঁটার রাস্তা। এর মাঝে নোংরা পানি জমে আছে। এতে জন্মেছে শেওলা। মাঠে জমা পানিতে পড়ে আছে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। মাঠের একাংশে পানি ও কাদা থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠের এক পাশে খেলাধুলা করছে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রেজাউল করিম বলে, স্কুলের মাঠে কাদাপানি থাকায় তারা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারে না। এক পাশে একটু শুকনো জায়গা আছে, সেখানে খেলতে হচ্ছে তাদের।

প্রায় একই কথা শিক্ষার্থী সুমনা আক্তার ও আকলিমা আক্তারেরও।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পার্বতী মল্লিক বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক শাহানা পারভীন বলেন, স্কুলের মাঠ নিচু থাকায় আশপাশের শিল্পকারখানা, বাজার ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত নোংরা পানি স্কুলের মাঠে এসে জমে থাকে। এতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঠে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না। বিষয়টি গাজীপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল বারেক সরকার বলেন, ‘বাজারের পানির নালা ও পাইপ আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পানি নামতে পারছে না। আর স্কুলের মাঠ নিচু থাকায় পানি জমছে। এতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এ সমস্যার সমাধান করতে।’

গাজীপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়টির মাঠে পানি জমে থাকায় সমস্যা অনেক দিনের। বর্তমানে কী অবস্থা, তা তাঁর জানা নেই। স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় কাউন্সিলর খোরশেদ আলম সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব তাঁর নয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর সহযোগিতা চাইলে তিনি সহযোগিতা করবেন।