ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৬

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন পুলিশের প্রতি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, আইন না মানলে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্যায় আদেশ দিলে তা মানবেন না। জনগণের করের টাকায় আপনাদের বেতন দেওয়া হয়।

কেন্দ্র ঘোষিত চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এ বক্তব্য দেন। মঙ্গলবার বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নুর আহমদ সড়কের ফুটপাতে এ কর্মসূচি পালিত হয়। শ পাঁচেক দলীয় নেতা-কর্মী এতে অংশ নেয়। বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে নুর আহমদ সড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।

নগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এবং উত্তর জেলার সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক চাকসু ভিপি মো. নাজিম উদ্দিন।

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দী খালেদা জিয়া অনেক শক্তিশালী। আমি আজ গর্ববোধ করছি, চট্টগ্রামের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। ৪০ বছর ধরে যাঁদের নিয়ে রাজনীতি করেছি, তাঁরা এখন নেতৃত্বে এসেছেন। তাঁদের নেতৃত্বে আন্দোলন যখন তুঙ্গে উঠবে, তখন পুলিশের নল ওদিকে (সরকারি দল) ঘুরে যাবে। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার হাজারো কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। কারাগারে তাঁরা অত্যন্ত কষ্টকর জীবন যাপন করছেন।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে মীর নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের মুক্তি না দিলে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে মীর নাছির উদ্দিন বলেন, তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আপনাদের (পুলিশ) জানা উচিত, ১৬৭ ধারা অনুযায়ী দুর্ধর্ষ ডাকাতকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। অথচ শাহাদাতকেও রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আইন না মানার জন্য পুলিশকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মাহবুবুর রহমান বলেন, কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে সাধারণ কয়েদির মতো খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলেরও নেত্রী তিনি। তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তাঁর কিছু হলে এর দায় শেখ হাসিনার সরকারকে বহন করতে হবে।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি দীর্ঘায়িত করতে সরকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ এই আচরণও মেনে নিতে পারছে না। বিএনপি সাধারণ মানুষকে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থান গড়ে তুলবে। তখন আওয়ামী লীগ পালানোর পথ পাবে না।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে যে প্রহসনের সাজা দেওয়া হয়েছে, তার বিচার একদিন বাংলাদেশের জনগণ করবে। মিথ্যা মামলায় এই সাজা দেওয়ায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে বাংলাদেশ।

আবু সুফিয়ান বলেছেন, সরকার জনগণের রায়কে ভয় পায় বলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে একতরফা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।