ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৭
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
২১ মার্চ ২০১৯, ২৩:৫৯

স্ত্রী রমণী ভূমিজ, দুই সন্তান দেবঙ্কর ভূমিজ (৬ বছর) ও দিপা ভূমিজকে (৮ মাস) নিয়ে শ্যাম ভূমিজের সংসার। পৌনে দুই বছরে ধরে মৌলভীবাজারের রাজারঘাটের টিপাইছড়া চা–বাগানের বসবাস করছেন শ্যাম। ছয় মাস আগেও এ জায়গায় ছিল না কোনো পানি সরবরাহের ব্যবস্থা।

পানি সংগ্রহের উৎস বলতে ছিল টিলার নিচে, প্রায় আধা মাইল দূরে অবস্থিত একটি কল। যেখানে প্রায় সারা বছরই পানির সরবরাহ থাকত। অন্য ব্যবস্থা না থাকায় এই টিলায় বসবাসরত প্রতিটি পরিবারকেই তখন পানি সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন আধা মাইল দূরে নিয়মিত যাতায়াত করতে হতো। যাতায়াতের এ পথও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

বৃষ্টির দিনে এ রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় অনেক সময়ই এখানকার মানুষ পানি আনতে যেতে পারত না। তখন ছাতা বা বালতিতে ধরে রাখা বৃষ্টির পানি ছেঁকে খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন, যা কিনা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পানিবাহী রোগ, জ্বর প্রভৃতির কারণ হয়ে দাঁড়াত। এ কারণে অসুস্থতার জন্য তাদের হাসপাতালেও যেতে হয়েছে।

যেহেতু পানি সংগ্রহ তাদের জন্য বেশ কষ্টকর ছিল, এ জন্য তারা পানিও কম পান করত এবং দৈনন্দিন কাজ, যেমন গোসল, কাপড় ধোয়া প্রভৃতি কাজে পানির ব্যবহার কম ছিল। ফলে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতাতেও প্রভাব পড়ত, যা তাদের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করত।এ টিলায় আগে পায়খানার ব্যবস্থাও ছিল না। তারা খোলা স্থানেই মলমূত্র ত্যাগ করত। এতে পরিবেশ নোংরা হতো। আর স্থানীয় ব্যক্তিরা অসুস্থ হয়ে পড়ত।ছয় মাস আগে ওয়াটারএইডের সহায়তায় আইডিয়া এ টিলায় দুটি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম ও শৌচাগার তৈরি করে দেয়। এ পাড়ার মোট ২০টি পরিবার এ পাইপ ওয়াটার থেকে পানি সংগ্রহ করে।শ্যাম ভূমিজ বলেন, ‘এখানে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হওয়ায় আমাদের এখন পানি সংগ্রহ করতে কষ্ট কম হয়, কাজে বেশি সময় দিতে পারি। আমাদের অন্যান্য দৈনন্দিন কাজের পানি পেতেও আর সমস্যা হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি ওয়াটার পয়েন্টটি পরিষ্কার রাখতে। সবাই পানি সংগ্রহ করে যে যার বাড়িতে নিয়ে ব্যবহার করে।’শ্যাম উল্লেখ করেন, এখানকার স্কুলেও ভালো শৌচাগার থাকায় তাঁর সন্তানসহ অন্য বাচ্চারাও স্কুলে এ সুবিধা পাচ্ছে, অনুপস্থিত থাকতে হচ্ছে না। পাইপ ওয়াটার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করে এ টিলার মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজতর করে দেওয়ার জন্য তিনি ওয়াটারএইড ও আইডিয়াকে ধন্যবাদ জানান।