ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৭
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
১২ জুন ২০১৯, ১৯:৫৪
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলন ও কমিটি নিয়ে বিএনপি উভয়সংকটের মধ্যে আছে। তিনি বলেছেন, গতকাল যেটি হয়েছে, সেটি অস্বাভাবিক না। কারণ বড় বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনে প্রতিযোগিতাগুলো অনেক সময় প্রতিহিংসায় রূপ নেয়। এটিকে বড় করে বা নেতিবাচক করে দেখার কিছু নেই।আজ বুধবার নয়াপল্টনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রদলের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উভয়সংকটে। ছাত্ররা দীর্ঘদিন জেল খাটল, মামলা এবং পুলিশের হয়রানির শিকার হলো। অথচ ওদের অবদানের বিনিময়ে ওরা কী পাবে? ওদের কি মূল্যায়ন হবে? দোষটা কার? দোষ কারও না। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল তার কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না।

বয়সসীমা না করে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে ছাত্রদলের আন্দোলনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ছাত্রদল বিরাট একটি সংগঠন। এই সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক ঐতিহ্য আছে। তবে অতীতের মতো ওদের আন্দোলনের ধারাবাহিক ঐতিহ্য নেই। কিন্তু তারপরও তো তারা প্রচেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা কোথায় থাকবে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে দীর্ঘ ১২ বছর থেকে তারা ক্যাম্পাসে যেতে পারে না। তাই তাদের কর্মকাণ্ডটা ক্যাম্পাসভিত্তিক বা ছাত্রদের নিয়ে করতে পারছে না।

ছাত্রদলের নিয়মিত সম্মেলনের বিষয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ছাত্রদলের নিয়মিত সম্মেলন হওয়া দরকার। কিন্তু সম্মেলন হওয়ার মতো হয়তো পরিস্থিতি নেই। যার কারণে সম্মেলনগুলো হতে বিলম্ব হয়। এ কারণে অনেকের ছাত্রত্ব থাকে না। আর সম্মেলন নিয়মিত হলে ছাত্ররা তাদের অবদান অনুযায়ী পুরস্কৃত হয়।

গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রদলের বিক্ষোভের বিষয়ে বিএনপির নেতা গয়েশ্বর আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে বিএনপির কিছু দায়িত্ব আছে। ছাত্রদের বোঝানো এবং এই সিদ্ধান্ত বানচালের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করে তাদের মূল্যায়ন কীভাবে করা যায়, তা করতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্রদের কথাগুলো শুনে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। ওদের সঙ্গে আলাপ করে এটির সমাধান করা যাবে।

বিএনপি একটি বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের বিষয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপিকে তিরস্কার করে তাঁর সংগঠনের দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের ঘর গোছানোর কাজটা তিনি আগে করুন।

ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, এখন কোনো দলের লাভ-ক্ষতির হিসাব করার সময় না। দলীয় লাভের হিসাব করলে ঐক্য হবে না।

কবে নাগাদ বিএনপি মাঠে নামবে? এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা তো মাঠে নামি। কিন্তু আমাদের মাঠে নামাটা কেউ দেখে না। সেই দেখানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর বিএনপির জন্ম বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে। যদি ঐক্য না-ও হয়, তাহলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে? তাহলে তো জনগণের দল হিসেবে বিএনপি দায়িত্বশীল দল হলো না।’

আন্দোলনের জন্য বিএনপি কতটা সংগঠিত? এ প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কোনো সময় কোনো দল শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে এবং শতভাগ দল গুছিয়ে আন্দোলন করে না। কারণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দলটা গুছিয়ে আসে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ নেই, ক্ষমতাসীন দলের এই বক্তব্যের বিষয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমার দেশে আমি বাস করি। আমার দেশের সমস্যা আমাকেই সমাধান করতে হবে।’