ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৭

তুচ্ছ ঘটনায় যুবলীগ নেতাকে চার দফায় মারধরের অভিযোগ

http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1598801/তুচ্ছ-ঘটনায়-যুবলীগ-নেতাকে-চার-দফায়-মারধরের-অভিযোগ
BYপ্রতিনিধি, বাউফল, পটুয়াখালী
১২ জুন ২০১৯, ২৩:৫৩

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার যুবলীগের এক নেতাকে চার দফায় মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মারধরের শিকার যুবলীগের ওই নেতা হলেন মো. সুজন মীর (২৫)। তিনি উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক। আহত হয়ে বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবিরের ভাতিজা মো. রাকিব হোসেনের (২০) নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জনের একটি দল তাঁকে চার দফায় মারধর করেছে।

আহত সুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনির ও আনিচ নামের দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি (সুজন) বাউফল সাব–রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। কাজ শেষ করে দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। ওই সময় তিনি মোটরসাইকেলের সামনে কয়েকজন মানুষ দেখে হর্ন বাজান। এতে ক্ষুব্ধ হন রাকিব। মোটরসাইকেল থামিয়ে তাঁকে (সুজনকে) এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন তিনি।

মনির ও আনিচ জানান, ওই ঘটনার পর সুজনকে নিয়ে তাঁরা বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কের নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে পৌঁছালে রাকিবসহ কয়েকজন ফের তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে হামলা চালান। এ সময় সুজনকে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সুজনকে একটি অটোরিকশায় তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিয়ে তৃতীয় দফায় মারধর করেন। ওই সময় সুজন নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়েও মারধর করেন রাকিব ও তাঁর লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

আহত সুজন মীর দাবি করেন, তাঁরা জমি বিক্রির দলিল নিয়ে রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। মারধরের সময় তাঁর (সুজনের) সঙ্গে থাকা জমি বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন রাকিব।

এ বিষয়ে জানার জন্য রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর চাচা বিএনপি নেতা মো. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, তর্ক–বিতর্কের একপর্যায়ে সুজন তাঁর ভাতিজা রাকিবকে চাবির রিং দিয়ে আঘাত করেন। এতে রাকিব রক্তাক্ত ও জখম হন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।