ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬

বিরল রোগে আক্রান্ত ঠেলাগাড়ী চালক আব্দুর রহমান

http://www.pbd.news/whole-country/37303/বিরল-রোগে-আক্রান্ত-ঠেলাগাড়ী-চালক-আব্দুর-রহমান
BYমৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ:  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:০৮

তিনজন প্রতিবন্ধী নিয়েই তাঁর যাপিত জীবন করছেন আব্দুর রহমান (৫৫)।পেশায় ঠেলাগাড়ী চালক। স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সব সুবধিা থেকে তিনি বঞ্চিত বিধায় সর্বদা দুর্ভাগ্য তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়।মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

কথা বলে জানা যায়, গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুর রহমান রেলওয়ে থেকে লীজ নেয়া জায়গায় মাটির ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। প্রায় ২০বছর বয়সের সময় তাঁর শরীরে এক ধরনের গুটি বের হয়। পর্যায়ক্রমে সমগ্র শরীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে গুটি নেই। গুটিগুলোতে কোন জ্বালা যন্ত্রণা বা ব্যথা না থাকলেও দেখতে দৃষ্টিকটু হওয়ায় অনেকেই তাঁকে এড়িয়ে চলেন। স্ত্রী সুরমা বেগম (৪৭) ছোট কালে টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হন। তখন তার বা পা বেঁকে যায়। সংসারে যোগান দিতে এক সময় মানুষের বাড়ীতে কাজ করলেও এখন ওই পায়ের ব্যথার কারনে আর কাজ করতে পারেন না।

দুই মেয়েকে পাত্রস্থ করলেও খিচুনি রোগে আক্রান্ত ছোট মেয়ে হালিমা বেগম (৯) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। একই ভাবে মানষিক রোগে আক্রান্ত বড় ছেলে শামীম (২৫) ও প্রতিবন্ধী। সেই সাথে ৪/৫ বছর আগে পড়ে গিয়ে দু’টি হাতই ভেঙ্গে যায় তার।সেহেতু কোন কাজে যেতে পারে না। দারিদ্রের কারনে এই তিন প্রতিবন্ধীর কারো এমনকি নিজের চিকিৎসা করানোর সুযোগ হয়নি আব্দুর রহমানের।শত অনটন উপেক্ষা করে দ্বিতীয় পুত্র শাহীন (১৮) কে গাড়ী মেকানিক্স এর কাজ শিখিয়ে ছিলেন। কিন্তু দুর্ভোগের যাতনা একধাপ বাড়িয়ে দিয়ে রোজগারের সময় প্রায় এক বছর আগে মা-বাবাকে ছেড়ে চলে যায় সে।

তৃতীয় পুত্র সেলিম (১৬) শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী মাঝে মধ্যে বাবাকে ঠেলা চালনায় সহযোগিতা করে। ছোট ছেলে আল আমিন (১১) স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ছে। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইনের রেল ঘেষা লীজের সামান্য জায়গায় মাটির ঘরে আব্দুর রহমানের বসবাস। যে ঘরের বাহিরে ভিতরে সমান ভাবে বৃষ্টি পড়ে। দীর্ঘ ষোল বছর ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি এ সেকশনে পুনর্বাসন কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ভোগছেন তিনি। এ এলাকায় বহু খাস জমি প্রভাবশালীদের দখলে থাকলেও ভূমিহীন আব্দুর রহমানের ভাগ্যে সামান্য মাথা গোঁজার ঠাঁই জোটেনি।

বন্যা কেন্দ্রিক ভিজিএফের আওতায় ত্রিশ কেজি চাল ও পাঁচশ টাকা ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে আব্দুর রহমানের প্রতিবন্ধী পরিবার। এ বয়সে শারীরিক সমস্যা নিয়ে ঠেলাগাড়ীর বোঝা টানা কষ্টকর হলেও পেটের দায়ে তা করতে হচ্ছে। দিনে দুই/আড়াইশ টাকা রোজগার হলেও তা দিয়ে সংসারের ভরণ পোষণ যেখানে অসাধ্য সেখানে এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি যেন গোদের উপর বিষফোড়া।

জানতে চাইলে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাশ বলেন, আব্দুর রহমানের পরিবার সম্পর্কে আমি অবগত। অচিরেই একটি প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করব।