ঢাকা, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫

শিক্ষকের গাফিলতিতে দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না আনোয়ার

http://www.rtvonline.com/country/33986/শিক্ষকের-গাফিলতিতে-দাখিল-পরীক্ষা-দিতে-পারছে-না-আনোয়ার
BYরাঙামাটি প্রতিনিধি|  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:২৯ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:৩৯
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় শিক্ষকের গাফিলতির কারণে দাখিল পরীক্ষা দিতে পারছে না মো. আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী।

আনোয়ার উপজেলার কাচালং দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অভিযোগ করেছে এই শিক্ষার্থী। 

অভিযোগে জানা গেছে, জেএসসি পাস করে কাচালং দাখিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয় আনোয়ার। যথারীতি সে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে দশম শ্রেণিতেও উত্তীর্ণ হয়। দশম শ্রেণিতেও সে নিয়মিত সব পরীক্ষায় অংশ নেয়। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু সবাই ফরম ফিলাপ করলেও তাকে ফরম ফিলাপ করতে দেয়া হয়নি। 

-------------------------------------------------------- আরও পড়ুন: বিএনপির সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় ৫ পুলিশ আহত --------------------------------------------------------

পরে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা আনোয়ারকে জানায়, রেজিস্ট্রেশনের টাকা যথাসময়ে জমা না হওয়াতে ফরম ফিলাপ করতে দেয়া হয়নি। অথচ মাদ্রাসা সুপার নিজেই স্বীকার করেছেন আনোয়ার রেজিস্ট্রেশনের টাকা যথাসময়ে জমা দিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা আনোয়ারকে জানায়, এ বছরতো সম্ভব না, আগামী বছরও পরীক্ষা দিতে পারবে না। ২০২০ সালে তাকে পরীক্ষা দিতে হবে। 

এই বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ফারুকের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, আনোয়ার স্কুল থেকে জেএসসি পাস করেছে। এরপর সে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। ভর্তির সময় তার কাগজপত্র জমা দেয়নি। যার কারণে তার রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হয়নি। 

কাগজপত্র ছাড়া কিভাবে ভর্তি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে মাদ্রাসা সুপার বলেন, এলাকার ছেলে হিসেবে তাকে ভর্তি করানো হয়েছে। কিন্তু সে নিয়মিত মাদ্রাসায় আসতো না। যার কারণে তাকে বারবার খবর দেয়ার পরেও সে যোগাযোগ না করাতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। 

নিয়মিত সব পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পরেও এবং ভর্তির যাবতীয় কাগজপত্র জমা না দিয়ে কিভাবে একটি প্রতিষ্ঠানে দুই বছর পড়ালেখা করলো এমন প্রশ্নের জবাবে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ফারুক বলেন, দুই একবার বলার পরে ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি আর বলা হয়নি। 

এটি নিজেদের অবহেলা স্বীকার করে শিক্ষার্থী আনোয়ারকে আগামী বছর পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলে জানান মাদ্রাসার সুপার।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদিম সারোয়ার বলেন, আনোয়ার নামে এক শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা যাবে কি করা যায়।

আরও পড়ুন:

এসএইচ/এসএস