ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৬

অর্থাভাবে মেডিকেল ভর্তি হতে পারছেন না রিকশাচালকের মেয়ে

http://www.rtvonline.com/country/53047/অর্থাভাবে-মেডিকেল-ভর্তি-হতে-পারছেন-না-রিকশাচালকের-মেয়ে
BYফেরদৌস জুয়েল, গাইবান্ধা|  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:০৮ | আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:৪২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামের হতদরিদ্র রিকশাচালক ফরিদ আহম্মেদ বাকীর মেয়ে ফরিদা আকতার এবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনিমেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৬৭.৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

মেয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় রিকশাচালক বাবা এবং তার পরিবারের লোকজন গর্বিত এবং খুশি হয়েছেন।ফরিদা আকতারকে ১৫ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি আগামীতে শিক্ষা জীবনও বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফরিদ আহম্মেদ বাকীর দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ফরিদা আকতার সবার বড়। সে ২০০৯ সালে জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১২ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৫ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ পান।

ফলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল হাসান নাহিদ তাকে সংবর্ধনা দেন। এরপর ২০১৭ সালে ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে গোল্ডেন এ+ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এই পরীক্ষায় ৬৭.৫ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান।

ছোট মেয়ে ফারজানা আকতার ২০১৩ সালে জরমনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ২০১৬ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। এখন সে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। এছাড়া ছেলে মো. সাব্বির হোসেন সৌমিক গাইবান্ধা শহরের সিরাতুল মুস্তাকিন ক্যাডেট মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। ২০১১ সাল থেকে সৌমিক থ্যালাসামিয়া রোগে আক্রান্ত। তাকে প্রতিমাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্ত দেয়া লাগে। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন।

ফরিদ আহম্মেদের সন্তানদের শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহের কারণেই সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয়জন হওয়ায় রিকশা চালিয়ে তার সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করে তিন ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

কিন্তু অর্থের অভাবে মেয়েকে ভর্তি করাতে না পারায় মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। এখন ফরিদ আহম্মেদ আগের মতো আর রিকশা চালাতেও পারছে না। তাই তিনি দেশের বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-যৌথ একাউন্ট মো. ফরিদ আহম্মেদ বাকী ও মোছা. ফরিদা আকতার, একাউন্ট নং ০০২২২৪৯৮৪, সোনালী ব্যাংক, সুন্দরগঞ্জ শাখা, গাইবান্ধা। বিকাশ নং ০১৭৮৫-৪৩৩৪১৭।

জেবি/ জেএইচ