ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

শাম্মি হিজড়ার সফলতার গল্প

http://bdsaradin.com//শাম্মি-হিজড়ার-সফলতার-গল্/
BYসাফল্য | ২০১৮, জুলাই ০৬ ০৭:৫২ পূর্বাহ্ণ

হিজড়া শব্দটি শুনলেই সবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাস্তা-ঘাটে বা বাসা-বাড়িতে অনেকটা জোড় করেই অর্থ আদায়কারী কিছু মানুষের চেহারা। তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষেরা সাধারণত ভিক্ষাবৃত্তি করেই জীবন চালায়।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক পাল্টে গেছে। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে অনেকেই এখন সন্মানজনক পেশা বেছে নিচ্ছেন। কেউবা করছেন চাকরি, আবার কেউবা ব্যবসা করেই সাবলম্বী হচ্ছেন।

তেমনই একজন সামিউল আলম শাম্মি। সামিউল আলম তার বাবা-মা’র দেওয়া নাম, আর শাম্মি নাম পেয়েছেন হিজড়া সমাজের কাছ থেকে। অতীতে অন্যদের মতো তিনিও বাসা-বাড়ি থেকে টাকা উঠিয়ে জীবন চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি সাভারের আশুলিয়ার ‘উত্তরণ-১’ নামের একটি বিউটি পার্লারের পরিচালক।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাম্মি বলেন, হিজড়াদের নিয়ে সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, হিজড়ারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকে। তারা কোনো কাজ করতে পারে না। কিন্তু আমি শুরু থেকেই চাইতাম, আমি কারো বোঝা হয়ে থাকবো না। ২০১৭ সালের শুরুতে আমরা এই ব্যবসা চালু করি। শুরুতে আমরা তিনজন ছিলাম: অনন্যা, আমি আর আখিঁ।

তিনি বলেন, আমি শাম্মি আজকে এখানে, কিন্তু একটা সময় আমি এখানে ছিলাম না। একটা সময় আমিও মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে টাকা তুলতাম। এখন আমার ভালো লাগে কেউ আমাকে বোঝা হিসেবে দেখে না, বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে না।

শাম্মি বলেন, ব্যবসা শুরুর কয়েকটা মাস আমাকে খুব যুদ্ধ করতে হয়েছে। প্রত্যেকটা পদক্ষেপে আমাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। তবে এখন আর অতটা সমস্যা হয় না।

তিনি জানান, শুরুতে অনেকে পার্লারে এসে যখন তাকে ও অন্য হিজড়াদের দেখতেন, তখন ভয় পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতেন।

শাম্মি বলেন, আমি সবসময় চেষ্টা করি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে। আমার এখানে কাজ না করুক, তাবুও বলি; আপা আসেন, বসেন, চা খান।

তিনি আরও বলেন, আগে বাজারে গেলে সবাই আতঙ্কে থাকতো কখন কি ছিনিয়ে নেব। এখন বলে আপা কি লাগবে, কি নেবেন? সবাই এখন আমাকে দেখে ভয় পায় না, বরং কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে।

Share this: