ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৬

বিইউবিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

http://www.dhakatimes24.com/2018/02/14/69247/বিইউবিটির-তৃতীয়-সমাবর্তন-অনুষ্ঠিত
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) তৃতীয় সমাবর্তন।

সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ডিগ্রি প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে প্রায় ৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি দেয়া হয়। এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য স্বর্ণপদক প্রদান করা হয় চারজন কৃতি শিক্ষার্থীকে।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপর বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবু সালেহ অনুষ্ঠানে স্বাগত দেন। তিনি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের ও বিইউবিটির মধ্যে যে বন্ধন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেটি চিরস্থায়ী হবে।’

তিনি আরও বলেন, “‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০’ এর সকল শর্ত পূরণ করে বিইউবিটি নিজেকে বাংলাদেশে একটি প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে”।

দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “বিইউবিটিকে সন্ত্রাসবাদ এবং অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে মুক্ত রেখে আমরা মানসম্পন্ন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রসারে বদ্ধপরিকর। সময়োপযোগী ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি আমাদের ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে মানব সম্পদে পরিণত করার জন্য আমরা সংকল্পবদ্ধ, যাতে করে তারা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।”

বিইউবিটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এ এফ এম সরওয়ার কামাল গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, “শিক্ষা জীবনের অভিযাত্রায় সমাবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কারণ এটি শিক্ষার এ যাত্রার একটি পর্যায়ের পরিসমাপ্তি এবং পরবর্তী পর্যায়ের শুভারম্ভ বলে চিহ্নিত।” শিক্ষা ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জাতির জনকের চিন্তাধারা ও ধ্যান ধারণার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব।”

সরওয়ার কামাল শিক্ষার্থীদের বলেন, “তোমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিইউবিটি তোমাদের যা দিয়েছে তার বিনিময়ে তোমরা সবাইকে জানিয়ে দাও যে তোমরা সত্যিকার অর্থে যে সার্টিফিকেট কিছুক্ষণের মধ্যে পেতে যাচ্ছ তোমরা তার পুরোপুরি উপযুক্ত।”

সমাবর্তনের বক্তা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকায় একটি আমুল পরিবর্তন এসেছে। পাশ্চাত্যেও অনেক পন্ডিত মনে করেন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব বৈশ্বিক কর্মী সৃষ্টি করা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে নিয়োজিত না থাকা। আমি এই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করি না। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈশ্বিক কর্মী সৃষ্টি করা।”

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে আজাদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে তোমরা বৃহত্তর জীবনে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছ। টেকনোলজি ও আবিষ্কারের এই নতুন বিশ্বে তোমাদের ব্রতী হতে হবে জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে। এ কাজে ব্যর্থ হলে তোমরা পিছিয়ে পড়বে এবং এগিয়ে যাওয়া সমাজে তোমরা অযোগ্য বিবেচিত হবে। আর্থ-সামাজিক সেক্টরে আমাদের দেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এদিকে আমি তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজন যোগ্য কর্মীবাহিনী। আমাদের এজন্য প্রয়োজন নেতৃত্বগুণ, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত আবিষ্কার। জ্ঞান ও দক্ষতা শেখানোর মাধ্যমে তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ লক্ষ্যেই কাজ করছে। আমিও বিশ্বাস করি, তোমরা শুধু সাফল্যের পেছনেই ছুটবেনা, তোমাদের জীবনে সাফল্য ও মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাবে।”

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবন এখানে শেষ হলেও বাস্তব কর্মজীবন এখান থেকেই শুরু। তোমাদের এ যাত্রাপথ শুভ হোক, সফল হোক। তিনি বলেন, “প্রকৃত শিক্ষা একজন মানুষকে আলোকিত করে। তার চিন্তাকে উদার করে। তাকে সহনশীল করে। এসব করতে ব্যর্থ হলে বুঝতে হবে সেই শিক্ষায় গলদ আছে। আধুনিক বিশ্বে দার্শনিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, মুক্ত, উদার ও বৈজ্ঞানিক জিজ্ঞাসাই হচ্ছে শিক্ষার ভিত্তি। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার ভিত্তি তাই হওয়া উচিত। আমি আশা করি বিইউবিটিতে অধ্যয়ন করার সময় তোমাদের শিক্ষকগণ এ সকল বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখেছেন।”

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আবদুল মান্নান বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কারণে এদেশের প্রচুর ছেলেমেয়ের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। একটি কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে বাংলাদেশে বর্তমানে যে প্রায় শ’খানেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে তাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন না মানার একটি প্রবণতা লক্ষণীয়। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের সকল আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আইনানুগ ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে। এটি মনে রাখা ভাল কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা তা মনে করে তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয় যে সম্প্রতি মঞ্জুরি কমিশনের পক্ষ থেকে যে ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষাকার্যক্রম নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরিচালনের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানিয়ে পত্র দিয়েছি, বিইউবিটি তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বিভিন্ন ধারাও ইতিমধ্যে বিইউবিটিতে প্রতিপালিত হয়েছে বলে আমি জেনেছি। বিইউবিটি’র এই সাফল্যে আমরা সন্তুষ্ট। এ জন্য অভিনন্দন জানাই বিইউবিটি কর্তৃপক্ষকে।”

এরপর রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন এবং কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৫তম ইনটেকের বিএসসি শিক্ষার্থী মো. মুকিব হোসেন এবং ইএমবিএ এর ২৪তম ইনটেকের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তানভীর হাসান চৌধুরীর গলায়‘চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক’ পরিয়ে দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ক্রেস্ট প্রদান করে বিইউবিটি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এ এফ এম সরওয়ার কামাল।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য এমবিএ ১৫তম ইনটেকের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান ফকিরকে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক এবং বিবিএ ২৫তম ইনটেকের শিক্ষার্থী নিগার নার্গিস জিসাকে বিইউবিটি ট্রাস্ট চেয়ারম্যান স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। সনদ ও পদক বিতরণ শেষে সঙ্গীত ব্যান্ড চিরকুট এবং তাহসান, লিজাসহ অন্যান্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনমাতানো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিইউবিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ঢাকাটাইমস/১৪ফেব্রুয়ারি/এমআর