ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য সহায়তা থাকবে: মুহিত

http://www.dhakatimes24.com/2018/05/17/81452/বাজেটে-পুঁজিবাজারের-জন্য-সহায়তা-থাকবে-মুহিত
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাটইমস

পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্র হলেও বাংলাদেশে তা হচ্ছে না বলে হতাশ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে নীতি সহায়তা থাকবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অর্থ মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বিশ্বব্যাংকের আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল ‘বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে অর্থায়ন’।

২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার চার গুণেরও বেশি বেড়েছে, বাজেটও বেড়েছে সমপরিমাণ, কিন্তু সেই তুলনায় পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি হতাশাজনক। ২০১০ সালের ধসের পর এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাজার।

২০১৭ সালে বাজারে সূচক দেড় হাজারেরও বেশি বাড়লেন চলতি বছরের শুরুর দিকে বাজারে আবার মন্দা এর মধ্যে চলতি বছরের শুরু থেকে আবারও বাজারে মন্দা দেখা দেয়। প্রায় এক হাজার পয়েন্টের মতো কমেছে সূচক। এ নিয়ে চরম হতাশ বিনিয়োগকারীরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আর এই বিনিয়োগের উৎস হবে পুজিবাজার।’

‘কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজার দুর্বল হওয়ার কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছেন।’

‘কিছু কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা ব্যাংকের কাজ নয়। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের উৎস হিসেবে তৈরি করতে আগামী বাজেটে নীতি সহায়তা থাকবে।’

বাজেটের পর দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ বাড়াতে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিযোগ। সম্প্রতি চীনের দুইটি কোম্পানি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে চুক্তি করেছে। এতে করে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।’

‘আমাদের পুঁজিবাজারের প্রধান সমস্যা হলো, ক্ষুদ্র বিনিযোগকারীরা গুজবের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করে।’

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফ্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশ করেছে। এখান থেকে আগামীতে মধ্যম আয়ের দেশে যেতেহলে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন। বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, ‘২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়শীল দেশের তালিকায় প্রবেশ করার জন্য আমাদের এখন থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। সেজন্য দেশে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

‘আমাদের রপ্তানি পণ্যের তালিকা আরও বাড়াতে হবে। একটি দুইটি খাতের ওপর নির্ভর না করে নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন দেশি বিদেশি বিনিয়োগ।’

‘বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি বন্ড মার্কেটের ওপর গুরুত্ব দেযা হয়েছে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী বাজেটে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে করে দেশে নতুন নতুন শিল্প কারখানাকে স্থাপন করা যায়।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার লার্নড্রুপাকসিনো, রিভার্সটোন ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও আশরাফ আহমেদ।

ঢাকাটাইমস/১৭মে/জেআর/ডব্লিউবি