ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৬

‘সরকার মালিকদের চাপে প্রহসনমূলক মজুরি ঘোষণা করেছে’

http://www.dhakatimes24.com/2018/09/14/96081/সরকার-মালিকদের-চাপে-প্রহসনমূলক-মজুরি-ঘোষণা-করেছে
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

‘সরকার মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শ্রমিকদের জন্য প্রহসনমূলক মজুরি ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণা করে সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সঙ্গে বেসরকারি শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তিনি।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন কমরেড খালেকুজ্জামান।

বাসদের এ নেতা বলেন, গত ৩ বছরের ইনক্রিমেন্টসহ রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির বর্তমান পরিমাণ ১৭৮১২ টাকা। অর্থাৎ সরকারের মানদণ্ডেও এটা প্রমাণিত যে একজন শ্রমিকের মানবিক জীবনযাপনের জন্য ন্যূনতম ১৮০০০ টাকা প্রয়োজন। কিন্ত সরকার মালিকদের চাপের শ্রমিকদের দাবির সাথে প্রতারণা করেছে।

তিনি বলেন, সরকার একদিকে গার্মেন্টস মালিকদের উৎস কর ও অন্যান্য কর্পোরেট কর কমিয়ে প্রণোদনা দিচ্ছে। অপরদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বাঁচার মতো নিম্নতম মজুরির দাবি থেকে বঞ্চিত করেও মালিকের স্বার্থ রক্ষা করছে।

অবিলম্বে শ্রমিকদের আকাঙ্খা ও বাজার দর এবং রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির সাথে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিবেচনা করে ১৮ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানান এ বাসদ নেতা।

এদিকে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে সরকার ঘোষিত ৮০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণাকে অন্যায্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট’।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, দপ্তর সম্পাদক হাসনাত কবির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকার ৮০০০ টাকার যে মজুরি ঘোষণা করেছে তার মধ্যে মুল মজুরি ৪১০০ টাকা। ২০১৩ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০০০ টাকা ৫ শতাংশ হারে বাৎসরিক বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ৫ বছর পরে বিদ্যমান মূল মজুরি ৩৮২৮ টাকা। অর্থাৎ নতুন মজুরি ঘোষণায় শ্রমিকদের মূল মজুরি মাত্র ২৭২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে মজুরি বোর্ড শ্রম আইন ‘২০০৬ এর ১৪১ নং ধারায় উল্লেখিত মানদণ্ড কিংবা আই.এল.ও কনভেনশন ১৩১এর মজুরির মাপকাঠিকে কোন মূল্য দেয়নি। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা অন্যায্য, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি মাত্র ২৭২ টাকা যা শ্রমিকদের দাবির সাথে সরকারের প্রহসন। দরকষাকষির ক্ষেত্রে সরকার মালিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে। প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি মাত্র ২৭২ টাকা যা শ্রমিকদের দাবির সাথে সরকারের প্রহসনমজুরি বোর্ড মানদণ্ড বিচারের পরিবর্তে দরকষাকষির স্থান হিসাবে ব্যবহত হয়েছে, যা আইন সম্মত নয়। নেতৃবৃন্দ ঘোষিত মজুরি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রিয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির সাথে সংগতি রেখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি ১৮০০০ টাকা ভিত্তি ধরে মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণা দেন। শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে আট হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা; বাড়ি ভাড়া দুই হাজার ৫০ টাকা এবং অন্যান্য এক হাজার ৮৫০। এর আগে ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এতদিন ধরে সেই হারে বেতন পাচ্ছিলেন পোশাক শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন ১২ হাজার থেকে ১৮হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবি করলেও সরকার ন্যুনতম মজুরি মাসে আট হাজার টাকা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। ডিসেম্বরে প্রজ্ঞাপনজারি করে এটি কার্যকর করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৪সেপ্টেম্বর/জেআর/ইএস)