ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
BY  ইয়াসিন রহমান ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
খামারিদের কাছ থেকে ক্রয় করার পর হাতবদল হয়ে প্রতিটি ডিম ভোক্তা পর্যন্ত আসতেই ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়ে যাচ্ছে! সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পোল্ট্রি খামারিরা প্রতিটি ডিম ৩ টাকা করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করলেও খুচরা ক্রেতারা কিনছেন ৮-৯ টাকায়।

প্রতিরাতেই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ট্রাকে ট্রাকে ডিম আসছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নিমতলী বাজারে। ঢাকার ছোট-বড় পাইকারি বিক্রেতাদের ভিড়ে প্রতিরাতেই সরগরম হয়ে উঠছে নিমতলীর ডিমের বাজার।

নিমতলীর আড়তদাররা প্রতিটি ডিম ৪ টাকা করে কিনে ছোটবড় পাইকারদের কাছে ৫ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ রাজধানীর বাজারভেদে এই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের এই বিশৃঙ্খলতার কারণে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারিরা, তেমনি ঠকছেন ভোক্তাসাধারণ।

রাজধানীর নিমতলী ডিমের আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে হাঁস-মুরগির ডিমভর্তি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আসতে শুরু করে। গাজীপুর, সাভার, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব ডিম আসে। ভোররাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। কথা হয় তেজগাঁওয়ের ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আমানাতুল্লাহর সঙ্গে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাজারের ৮৬টি ডিমের আড়ত থেকে প্রতিরাতে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার ডিম বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার ডিম বেচাকেনা হয়। বর্তমানে ডিমের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে খুচরা পর্যায়ে দাম অনেক বেশি নেয়া হচ্ছে।

আড়ত ঘিরে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই ডিমের দাম বাড়ার মূল কারণ। ওরা আমাদের কাছ থেকে কম দামে ডিম কিনে আরেক দফা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। এত হাতবদলই মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ।

কথা হয় নিমতলীর আড়ত থেকে খানিকটা দূরে পাইকারি ও খুচরা ডিম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হাজী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রতিহালি ডিম ২০ টাকায় ক্রয় করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ২৭-২৮ টাকা হালিতে বিক্রি করি। ওরা বিক্রি করে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায়। হাতবদলের কারণে ডিমের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বাজারের অব্যবস্থাপনা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা গেলে সাধারণ মানুষ আরও কম দামে ডিম কিনতে পারবে।

নিমতলীর আড়তে কথা হয় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা ক্ষুদ্র পাইকারি ক্রেতা আবদুল খালেকের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ডিম ক্রয় করি এই আড়ত থেকে। খুচরা বিক্রেতারা আবার আমাদের কাছ থেকে ডিম কিনে নিয়ে যায়।

সবারই তো লাভ করতে হয়। তাছাড়া ডিম সহজেই ভেঙে যায়। অনেক ডিম নষ্ট থাকে। এ সবই ভোক্তাদের ওপর গিয়ে পড়ে। ফলে বাড়ে ডিমের দাম।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আড়তে ডিম এনে অনেককে সরাসরি ঢাকার পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে দেখা যায়। এতে কিছু টাকা বেশি লাভ হলেও এক্ষেত্রে আবার তাদেরকে শতকরা ১০ টাকা কমিশন দিয়ে বিক্রি করতে হয়।

আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ লাখ ডিম এলে সম্প্রতি ডিম আসা কমে গেছে। তাছাড়া মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধির ফলে অনেক খামারি নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছে। ফলে চাপ পড়ছে খুচরা পর্যায়ে।

রমজানের আগে স্থানীয় বাজারে প্রতি ডজন ডিম ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও কিছুদিন ধরে ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।