ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
BY  মিজান চৌধুরী, ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩৪ হাজার কোটি টাকার (৪০০ কোটি মার্কিন ডলার) সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার বালির ওয়েস্ট্রিন হোটেলে বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী ১ বছরের জন্য এ অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

একই দিন অপর এক বৈঠকে এ প্রস্তাবসহ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পেতে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া ঢাকার পরিবহন সমস্যা নিরসনে নিউইয়র্কের মতো মেট্রো ট্রান্সপোর্ট অথরিটি গঠনে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় (বালি) সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় বালি হোটেল ওয়েস্ট্রিনে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছে বেশি পরিমাণ অর্থ চেয়েছি। সংস্থাটি ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বাংলাদেশ ২ বছরের মধ্যে তা ব্যবহার করেছে।

এখনও ১ বছর বাকি। আমাদের হাতে আরও ৪০০ কোটি ডলারের কর্মসূচি রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী ১ বছরের জন্য ৪৫০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সংস্থাটি ২০০ কোটি ডলারের কম দেবে না বলে তিনি মনে করেন।

অর্থমন্ত্রী মুহিত আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। রোহিঙ্গাদের সহায়তা নিয়ে আগামীতে সমস্যা হতে পারে তারা বলেছেন। তবে রোহিঙ্গাদের সহায়তাগুলো অনুদান হিসেবে দেয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থায়ন পেতে কোনো সমস্যা হবে না। খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফ অনেক আগে থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী সরকারের জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। যাওয়ার আগে এটি দিয়ে যাব।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এ যুদ্ধ সুখকর নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বড় বাজার রয়েছে এবং চীন বড় উৎপাদনকারী দেশ। এ দু’দেশের মধ্যে ঝগড়ায় অন্যারা সমস্যায় ভুগবে। এ যুদ্ধের অবসান আমরাও চাই।

সকালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মুল্যায়নি ইন্দ্রাবতির সঙ্গে বৈঠকের ইস্যু তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি (মুন্যায়নি)। এখন ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী হলেও বিশ্বব্যাংকে তিনি একটি বড় ভূমিকা রাখছেন। এজন্য তাকে আমাদের পাশে থাকতে বলেছি। ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়নি।

মাল্টি ইনভেস্টমেন্ট সিকিউরিটির সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, এ সংস্থা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনেকগুলো গ্যারান্টি দিয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এখন তারা ভিন্ন খাতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা দিচ্ছে। সংস্থাটিকে আমরা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) খাতের কথা বলেছি। কারণ এ খাতে ৪২টি প্রকল্পের অনুকূলে ১৪০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, পিপিপি শুরুতে ধীরগতিতে চলছিল। এখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে প্রকল্পের ৩০ শতাংশ পিপিপিতে করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমনওয়েলথ ফাইন্যান্স মিনিস্টারের অপর একটি বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, এটি নিয়ে আমাদের খুব বেশি গুরুত্ব নেই। সেখানে বলেছি আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বেশি। যে কেউ চাইলে এ অভিজ্ঞতা নিতে পারে। তিনি বলেন, আইএফসি বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ভালো সহায়তা করছে। তবে তাদের ঋণ অনুমোদনে অনেক জটিলতা এবং তা দূর করতে বলা হয়েছে। ঢাকার পরিবহন সমস্যা দূর করতে সংস্থাটিকে তিনি অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিউইয়র্ক মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটির আলোকে ঢাকায় অথরিটি করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কারণ ঢাকায় জনসংখ্যা আগামীতে ৩ কোটি হবে।

চীন ও ভারতে মুদ্রার মান কমলেও বাংলাদেশ টাকার মান ধরে রেখেছে- এটি ঠিক হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, এ বিষয়ে কোনো কাজ হয়নি। আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, গত কয়েক মাসে এটি সমন্বয় করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব শফিকুল আজম বলেন, আফ্রিকা জোন থেকে অর্থ এনে বাংলাদেশকে ঋণ সহায়তা দেয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তিনি বলেন, বর্তমান আইএফসি বছরে ৫০ কোটি ডলার অর্থায়ন করছে। আগামীতে সংস্থাটি ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে।