ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৬
BY  ইয়াসিন রহমান ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাড়তি এ আয়ে বেশি অবদান রেখেছে পোশাক ও কৃষিজাত পণ্য।

রফতানি আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পাঁচ মাসে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৫২৩ কোটি মার্কিন ডলার।

তার বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয়েছে ১৮৪ ডলার- যা শতাংশ হিসেবে ১২ দশমিক ০৭। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময় রফতানি আয় ছিল ১ হাজার ৪৫৬ কোটি ডলার। সেক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এদিকে একক মাস হিসাবে শুধু নভেম্বর মাসে রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। এ মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১০ কোটি ডলার। আয় হয়েছে ৩৪২ কোটি ডলার। সেক্ষেত্রে আয় বেশি পাওয়া গেছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়া গত বছরের এ সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

ইপিবির প্রতিবেদনে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাঁচ মাসে নিটওয়্যার খাতে রফতানি আয় হয়েছে ৭৩০ কোটি ডলার। আর ওভেন খাতে রফতানি আয় এসেছে ৬৮৮ কোটি ডলার।

পোশাকের দুই খাতে এসেছে ১ হাজার ৪১৮ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২৭৬ কোটি ডলার। সেক্ষেত্রে দেখা গেছে, পাঁচ মাসে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এর বাইরে কৃষিজাত পণ্য খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ কোটি ডলার, যার বিপরীতে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ডলার।

সেক্ষেত্রে পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয়েছে ৬৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

হিমায়িত খাদ্য ও মাছ খাতে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। আয় বেশি হয়েছে ২৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে পাঁচ মাসে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি আয় কম হয়েছে ১৭ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। সেক্ষেত্রে আয় কম হয়েছে এক শতাংশ।

এ ছাড়া কেমিক্যাল পণ্য খাতে রফতারি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেশি হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

ইপিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববাজারে রফতানি পরিস্থিতি, ভোক্তার চাহিদা এবং রফতানিকারকদের সরবরাহ সক্ষমতা সব সময় এক তালে চলে না। ফলে বিভিন্ন খাতে রফতানি আয়ে বিভিন্ন সময় কমবেশি বিচ্যুতি ঘটতে পারে।

কিন্তু আমাদের রফতানি খাতে আশার খবর হচ্ছে- দু-একটি খাত ছাড়া বাকি সব রফতানি খাতে আয় বেশি হচ্ছে এবং পণ্যে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধিই সামনে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অপরদিকে রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কোনো কোনো খাতে এখনও আয় ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না। এটিই এখন আশঙ্কার বড় কারণ। এটি ভালো লক্ষণ নয়।

কারণ আমাদের ন্যূনতম প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগুলো চলবে না। মনে রাখা দরকার, সামনে ২০২১ সাল নাগাদ সার্বিক রফতানি খাত থেকে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এককভাবে তৈরি পোশাক খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন তা অর্জন করতে হলে প্রতি মাসেই রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকতে হবে ১১-১২ শতাংশ হারে।