ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৭

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী আন্তর্জাতিক বাজারে

https://www.jugantor.com/todays-paper/industry-trade/198224/নিত্যপণ্যের-দাম-ঊর্ধ্বমুখী-আন্তর্জাতিক-বাজারে
BY  ইকবাল হোসেন ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববাজারে ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভোজ্যতেল, চাল, চিনি, গম ও সোনার দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশের মতো সে সব দেশ, যারা এগুলো আমদানি করে চাহিদা মেটায়। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র ওঠে এসেছে। প্রতি মাস শেষে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান প্রধান পণ্যের দামের হিসাব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। এতে বিশ্বের প্রধান প্রধান বাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়। জুলাই মাসের পণ্যের দামের প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে। এ সময় জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের গড়দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। খাদ্যশস্যের দাম ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যবান ধাতুর দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়। কারণ বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ও চিনির চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবে আমদানি খরচ বাড়বে। দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে দেশে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, এপ্রিলে সয়াবিন তেলের গড়দাম প্রতি টন ছিল ৭৩৪ ডলার, তা জুনে বেড়ে ৭৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময় পাম তেলের দাম কিছুটা কমেছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এপ্রিলে থাইল্যান্ডে প্রতিটন ৫ শতাংশ ভাঙা চালের গড়দাম ছিল ৪১৩ ডলার, যা জুনে ৭ ডলার বেড়ে ৪২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ২৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টন ৭ ডলার বেড়ে ৪০৪ থেকে ৪১১ ডলার হয়েছে। থাইল্যান্ডের এ ওয়ান মানের চাল প্রতি টন ৩৯১ থেকে বেড়ে ৩৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিলে ভিয়েতনামের প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চালের গড়দাম ছিল ৩৪১ ডলার, যা জুনে ১৭ ডলার বেড়ে ৩৫৮ ডলার হয়েছে।

এ সময় গমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ গমের গড়দাম এপ্রিলে ছিল প্রতি টন ১৯৭ ডলার ৩ সেন্ট, জুনে তা ২৫ ডলার ১ সেন্ট বেড়ে ২২২ ডলার ৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন চিনির গড়দাম ২৭০ ডলার ছিল, জুনে তা বেড়ে ২৮০ ডলারে অবস্থান করছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের গড়দাম আউন্সপ্রতি ৭৩ ডলার বেড়েছে। ডিসেম্বরে মূল্যবান ধাতুটির গড়দাম ছিল প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮৬ ডলার, জুনে তা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৯ ডলারে অবস্থান করে। এর আগে গত এপ্রিলে বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক-২০১৯’-এ চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি না বাড়র পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছর শেষে সয়াবিন তেলের গড় দাম টনপ্রতি ৭৬০ ডলারে দাঁড়াতে পারে- যা ২০১৮ সালে ছিল ৭৮৯ ডলার। পাম তেলের টনপ্রতি দর ৫০ ডলার কমে ৩৫৫ ডলারে ঠেকবে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি ও আগামী বছর বিশ্ববাজারে গমের দামে সামান্য হেরফের হবে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হার্ড রেড উইন্টার (এইচআরডব্লিউ) গমের দর টনপ্রতি ২১০ ডলার ছিল। চলতি বছর শেষে গড়ে তা ২১২ ডলার হতে পারে। চলতি বছর মূল্যবান ধাতু বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সোনার দর প্রতি আউন্সে ৪১ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৩১০ ডলারে উন্নীত হতে পারে, যা আগামী বছর ১ হাজার ৩৬০ ডলারে ঠেকবে। চিনির দর কমে চলতি বছর টনপ্রতি গড়ে ২৮০ ডলারে নামতে পারে, যা ২০১৭ সালে ছিল ৩৫০ ডলার।