ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৬
BY  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে হবে, কারণ এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। একদিকে এটি কৃষি সম্পদ অন্যদিকে শিল্পপণ্য উৎপাদনে এর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। পাট পণ্য হতে হবে সস্তা, আকর্ষণীয় ও সহজে ব্যবহারযোগ্য।

কৃষিতে যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মতো পাটেরও নানামুখী ব্যবহার বাড়াতে হবে। বুধবার বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাটের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে। অল্প এবং মাঝারি লবণাক্ত মাটিতে চাষ উপযোগী পাটের জাত আমাদের আছে। বেশি লবণাক্ত মাটিতে চাষ উপযোগী জাত উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি বলেন, পাটের ভবিষ্যৎ কিন্তু টেক্সটাইলের সঙ্গে জড়িত।

বিজেআরআই পাটের লিগনিনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে টেক্সটাইল শিল্পের সুতা তৈরিতে পাট ব্যবহার করা যাবে। কাগজ শিল্পের ক্ষেত্রে পাল্প আমদানি করতে হয়। আমরা যদি পাট থেকে এ পাল্প সরবরাহ করতে পারি। তাহলে আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, পাটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে কৃত্রিম তন্তু। বলা হয় সার শুধু পাটের বস্তায় আনতে হবে। পাটের বস্তায় বিশেষ করে ইউরিয়া বা অন্য সার শ্রমিকরা মাথা থেকে নামানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে ফেটে যায়। পাটের বস্তা আর্দ্রতা শোষণ করে তাড়াতাড়ি। সে অবস্থায় সারের ওজন কমে যায়। এ সমস্যার সমাধান না করে জোর করে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে এ সার্কুলার দিতে পারি। কিন্তু সেটা বাস্তবসম্মত হবে না। সে অবস্থায় পাটের ব্যাগ কৃত্রিম তন্তুর মতো না হলেও, কাছাকাছি টিকতে পারে সে ধরনের পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে জোর করে সরকারি ক্রয়ে পাটের ব্যাগ ব্যবহার থেকে যাবে। কিন্তু বেসরকারি খাতে এর ব্যবহার হবে না।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজেআরআইর পরিচালক (কারিগরি) ড. মো. আসাদুজ্জামান। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন বিজেআরআইর মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল আলম।