ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৬
BY  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সৌদি আরবের তেল কোম্পানি ‘আরামকো’ সৌদি আরবের তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার যৌথ কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে সৌদি আরবে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও। সেই সঙ্গে দু’দেশের স্বার্থ রক্ষায় ৩১টি বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে দু’দেশ। দুদিনের যৌথ কমিশনের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সমঝোতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলনেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতা দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রহমান গাসিম উপস্থিত ছিলেন।

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সূত্র জানায়, ইআরডি’র আয়োজনে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এজেন্সিগুলোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন। দু’পক্ষই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেছে।

‘আরামকো’র বিনিয়োগের বিষয়ে ইআরডির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরামকোর বিনিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাই বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তবে ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু জি-টু-জি বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, তাই সরাসরি আমরা টাকার অঙ্ক বলতে পারি না। এটি বেসরকারি পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আরামকো’র মতো বড় কোম্পানি বিনিয়োগ করলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মতোই তো আশা করা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ার আহমেদ বলেন, বুধবার সৌদির ‘এ্যাকোয়া পাওয়ার’র সঙ্গে ১৮০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চুক্তি হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই সৌদি আরবের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসবেন এবং এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি সফরের পর দু’দেশের সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। এর সঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত। তাই পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা করা হবে।

সৌদি আরব ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় তুলেছিল কিনা জানতে চাইলে দেশটির উপমন্ত্রী মাহির আবদুর রহমান গাসিম বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ থেকে যারা সেখানে গিয়ে কাজ করছেন, তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। আমরা নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে অপরাধ প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।

দু’দেশ যেসব বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে তার মধ্যে আছে- বিদেশ, অভ্যন্তরীণ ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই পাসপোর্ট, ওয়ার্কিং ভিসা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ভ্রমণের নথি জারি করার বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

উভয়পক্ষ ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও মতবিনিময় কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি (বিএফএসএ) এবং প্রিন্স সৌদ আল ফয়সাল ইন্সটিটিউশন ফর ডিপ্লোমেটিক স্টাডিজের (পিএসএফআইডিএস) মধ্যে সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশ বিচারিক ক্ষেত্রে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জালিয়াতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে নতুন তথ্য হালনাগাদেও সম্মত হয়েছে দু’পক্ষ।

বৈঠকে বাংলাদেশি পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানসংক্রান্ত সমস্যাসহ তিনটি ইস্যু সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব হস্তান্তর করা হয়।

সৌদিআরবের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৌদি প্রতিনিধি দলকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোর বিশদ তথ্য সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্যিক পণ্যের বৈচিত্র্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

সৌদি রফতানি কর্মসূচির (এসইপি) উপকারভোগীদের অর্থায়নের সুবিধার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। সৌদি চেম্বারের কাউন্সিলের অধীনে সৌদি বিনিয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার (এ্যাকোয়া পাওয়ার, আরামকো, আল-বাওয়ানি, আল জোমিয়া, ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশন, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, মধু ও স্বাস্থ্য) বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে

আলোচনা হয়। সৌদি পক্ষ দু’দেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞ, পেশাদার ট্যুর অপারেটর ও ভ্রমণ লেখকদের বিনিময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের অনুরোধে সৌদির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) দুই দেশের পতাকাবাহী বাহককে (বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স) সবদিক থেকে সমান বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে।

উভয়পক্ষ বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে সৌদি আরবকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং বিভিন্ন শাখায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আরও বেশি বৃত্তি দেয়ার অনুরোধ করা হয়।