ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না : এনবিআর চেয়ারম্যান

https://www.jugantor.com/todays-paper/last-page/38943/এবার-রাজস্ব-আদায়ের-লক্ষ্য-অর্জন-সম্ভব-হবে-না--এনবিআর-চেয়ারম্যান
BY  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া চলতি অর্থবছরে প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, আগের অর্থবছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ৪০ শতাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

এজন্য সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হতে পারে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) সোমবার রাজস্ব হালখাতা ও বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এলটিইউর কমিশনার অপূর্ব কান্তি দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে। এজন্যে সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা কমানো হবে।’

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এবার রাজস্ব হালখাতায় ৪০৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার বকেয়া আয়কর আদায় হয়েছে।

এর মধ্যে আয়কর এলটিইউ ৬৫ কোটি টাকার বকেয়া আদায় করেছে। ভ্যাটের হিসাবটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও তা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হতে পারে।

আর কাস্টমসে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বকেয়া আদায় হবে।’ তিনি বলেন, ভ্যাট আদায় এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। উৎসে করের মনিটরিং আরও বাড়ানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এনবিআরে আইটির যত প্রয়োগ হবে, রাজস্ব সংগ্রহ তত বাড়বে। দেশে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে।

এনবিআরের নীতি আরও সহজ ও করবান্ধব করা দরকার। শেয়ারবাজারকে আরও চাঙ্গা করতে হবে। তিনি বলেন, মাত্র ৩৫ লাখ লোক আয়কর নিবন্ধিত।

১৬ কোটি মানুষের দেশে এটা অন্তত ১ কোটি হওয়া উচিত। মাত্র ১৫ লাখ লোক আয়কর দেন, এটা বাড়ানো দরকার।

করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৩০ লাখ বাস-ট্রাক রয়েছে। করের আওতা বাড়াতে বাস-ট্রাকের মালিক-ড্রাইভারদের করের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামের দোকানগুলোকেও করের আওতায় আনতে হবে।