ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:৫০
• ব্যয়কাঠামোয় পরিবর্তন। • অপারেটররা বলছে, বিকাশ, রকেটে টাকা পাঠাতে খরচ বাড়বে না। • বিকাশ বলছে, প্রভাব পরে বোঝা যাবে।

মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার (এমএফএস) আয় ভাগাভাগির বর্তমান খরচকাঠামোতে পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে এ সেবার অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য বিকাশ, রকেটের মতো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবে। অর্থ দেওয়ার এ প্রক্রিয়াটি দুইভাবে হবে। ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে একটি আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হলে এ জন্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে মোবাইল ফোন অপারেটররা ৮৫ পয়সা পাবে। আর্থিক লেনদেন বাদে অন্য কাজের জন্য প্রতিবার এমএফএস সেবা ব্যবহারে ৪০ পয়সা দিতে হবে।

এমএফএস সেবার খরচকাঠামো নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), এমএফএস প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিটিআরসি এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল অপারেটরদের জন্য শিগগিরই একটি নির্দেশনা জারি করবে। এরপরই এমএফএস সেবার অবকাঠামো ব্যবহারে নতুন এ খরচ পদ্ধতি চালু হবে। এতে গ্রাহকের খরচ বাড়বে না বলে মোবাইল ফোন অপারেটররা দাবি করেছে।

এমএফএস সেবা দিতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের অবকাঠামো প্রযুক্তিকে বলা হয় ইউএসএসডি (আনস্ট্রাকচারড সাপ্লিমেন্টারি সার্ভিস ডেটা)। এই প্রযুক্তি আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের সঙ্গে গ্রাহককে যুক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, একজন গ্রাহক যখন তাঁর ব্যক্তিগত হিসাব থেকে আরেকজনকে টাকা পাঠান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেরক ও প্রাপকের কাছে দুটি খুদে বার্তা যায়। আবার, হিসাবে কত টাকা আছে, সেটা দেখতে একটি নির্দিষ্ট নম্বর ডায়াল করতে হয়। অপারেটরদের এই প্রযুক্তিগত সুবিধাকেই বলা হয় ইউএসএসডি।

নতুন সিদ্ধান্তে ইউএসএসডি ব্যবহারের খরচকাঠামোতেই পরিবর্তন আসছে। মোবাইল ফোন অপারেটররা বলছে, এতে এ সেবা ব্যবহারকারীদের খরচ বাড়বে না। আর এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গ্রাহকের খরচ বাড়বে কি না, তা নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরেই বোঝা যাবে।

এমএফএস সেবার ইউএসএসডি মাশুল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই ঝুলে ছিল। গতকালের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইউএসএসডির মাশুল নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসির দুই ধরনের প্রস্তাব ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সেবার মাশুল ৪০ পয়সা নির্ধারণের পক্ষে মত দেয়। আর বিটিআরসি মতামত দেয় ৮৫ পয়সা নির্ধারণের পক্ষে। শেষ পর্যন্ত দুটো প্রস্তাব রেখেই ইউএসএসডির দ্বিস্তরবিশিষ্ট মাশুল হার নির্ধারণ করা হয়।

বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন শামসুদ্দিন হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ইউএসএসডির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বিকাশ বাস্তবায়ন করবে। তবে এর ফলে গ্রাহকের খরচ বাড়বে কি না, তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন বলেন, ইউএসএসডির মাশুল পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকের টাকা পাঠানোর খরচ আপাতত বাড়বে না। তবে ভবিষ্যতে যদি ব্যাংকের খরচ বাড়ে, তাহলে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইউএসএসডির খরচ পুনর্নির্ধারণের ফলে গ্রাহকের টাকা পাঠানোর খরচ যাতে কোনোভাবেই না বাড়ে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এ জন্য টাকা পাঠানোর বর্তমান খরচ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা লেনদেনে গ্রাহকের কাছ থেকে ১ টাকা ৮৫ পয়সা নেওয়া হয়। এর ৭৭ শতাংশ এজেন্ট, ৭ শতাংশ মুঠোফোন অপারেটর, আর বাকি ১৬ শতাংশ এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পায়। তবে বেশির ভাগ এজেন্ট গ্রাহকের কাছে প্রতি ১০০ টাকায় ২ টাকা আদায় করে।

ইউএসএসডির নতুন মাশুল হার নির্ধারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। গ্রামীণফোনের প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘অনেক তর্কবিতর্ক ও আলোচনার পরে ইউএসএসডির মূল্য নিয়ে একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আশা করি এ সিদ্ধান্ত অচিরেই বাস্তবায়িত হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এমএফএস সেবায় নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা ৫ কোটি ৯৬ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় ব্যবহারকারী ২ কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে দেশের ১৮টি ব্যাংক এ সেবা দেয়। এমএফএসের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হয়।