ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৭

দূর করতে হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট

http://www.prothomalo.com/economy/article/1598698/দূর-করতে-হবে-বিনিয়োগকারীদের-আস্থার-সংকট
BYঅধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১২ জুন ২০১৯, ১৩:০১

শেয়ারবাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল করতে হলে সবার আগে দরকার এটিকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা। দেশের ১৬ কোটি মানুষই কমবেশি সঞ্চয়কারী। তাঁদের সেই সঞ্চয়ের টাকা যদি শেয়ারবাজারে না আসে বা শেয়ারবাজারের চেয়ে অন্য কোনো খাতকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় মনে করে, তাহলে সরকারের কোনো প্রণোদনায় কাজ হবে না। বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজারকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে সবার আগে বিনিয়োগকারী তথা সঞ্চয়কারীদের আস্থার জায়গাটিতে হাত দিতে হবে। এ জন্য বাজেটে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সারা বছর ধরে কাজ করতে হবে।

দেশের সাধারণ মানুষ বা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে শেয়ারবাজারে অনেক খারাপ লোক রয়েছেন। যাঁদের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। শেয়ারবাজার নিয়ে বেশির ভাগ সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি এমন ধারণা থাকে তবে এ বাজারে কখনোই ভালো বিনিয়োগকারী ও ভালো উদ্যোক্তা আসবেন না। তাই এ বাজারকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করতে হলে ভালো উদ্যোক্তা ও ভালো বিনিয়োগকারী আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য খারাপ কাজ বা কারসাজি করলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির স্থাপন করা জরুরি।

অর্থমন্ত্রী কিছুদিন আগে সংসদে বলেছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণহীন। তাই সরকারের এবং বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত সবার আগে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। কারণ বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সরকারের দেওয়া কোনো প্রণোদনারই যথাযথ সুফল মিলবে না। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও সেগুলোর কার্যকর কোনো প্রভাব পড়েনি। এটি হয়েছে বাজারের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারায়।

আমাদের বাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা একেবারেই কম। এ কারণে মন্দ কোম্পানি নিয়ে নানা ধরনের কারসাজির ঘটনা ঘটে। তাই আমি মনে করি, বাজেটের মাধ্যমে নানা ধরনের কর সুবিধা দিয়ে ভালো কোম্পানিকে বাজারে আসতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এ ছাড়া সরকারি মালিকানাধীন বেশ কিছু ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তির কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনছি। এ বিষয়ে বাজেটে অর্থমন্ত্রীর সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা উচিত। ধীরে ধীরে চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি মালিকানাধীন ভালো কোম্পানি বাজারে আনার উদ্যোগ দরকার।

ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা যাতে শেয়ারবাজারে এগিয়ে আসেন, সে জন্য বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত সুবিধাকে আরও আকর্ষণীয় পর্যায়ে নিতে হবে। মধ্যম আয়ের মানুষেরাও যেন বাজারে আসতে আগ্রহী হন, সে জন্য কর রেয়াতের হার বাড়ানো যেতে পারে। তবে সেটি হতে হবে শর্তসাপেক্ষে। যদি কেউ ছয় মাস বা এক বছরের জন্য বিনিয়োগ করেন, তবেই এ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হলে তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন। বাজারের লেনদেন এখন যে পর্যায়ে নেমেছে তাতে লেনদেনের ওপর আরোপিত করের পরিমাণ কমানো দরকার।

অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদান সাপেক্ষে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে আমি নই। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কালোটাকা তৈরির সুযোগ রয়ে গেছে। যেখানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতেই কালোটাকা তৈরি হচ্ছে, সেখানে ওই টাকার বিনিয়োগের সুযোগ না থাকলে তা পাচার হয়ে যাবে। কারণ পৃথিবীতে অনেক দেশ নানা আকর্ষণীয় সুযোগ দিয়ে এ ধরনের অর্থ তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।