ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৭

আদমশুমারিতে প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা তুলে ধরা হচ্ছে না: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

http://www.prothomalo.com/economy/article/1600062/আদমশুমারিতে-প্রান্তিক-মানুষের-বাস্তবতা-তুলে-ধরা
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
১৯ জুন ২০১৯, ২২:১৫

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করতে চাই। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার কাজ করছে। কিন্তু আদমশুমারি বা সামাজিক সুরক্ষার মতো সরকারের কোনো কর্মকান্ডে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরা হচ্ছে না। দেশের প্রায় চার শতাংশ জনগোষ্ঠীকে অদৃশ্য রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। তাই এখনই জরুরি তাদের বাস্তবতা দৃশ্যমান করা।’

আলোকচিত্রী ফিলিপ গাইনের ‘ব্রাত্যজন’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রর্দশনীর উদ্বোধন করে এই কথাগুলো বলেন এই অর্থনীতিবিদ। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে সপ্তাহব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হয়।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘পেশা, বসতিসহ নানা কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ মূলধারা থেকে অদৃশ্য। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা, আদমশুমারি থেকে বাদ পড়ার দায় সরকার এড়াতে পারে না। চমক সৃষ্টির জন্য অনেক সময় এই প্রান্তজনদের সামনে আনা হয়। কিন্তু বাস্তবে তাদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কিছুই করা হয় না। সরকারকে চমক নয়, তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।’ সভাপতির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা পিপিআরসির নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, । ক্ষমতাহীনকে অদৃশ্য করে রাখা ক্ষমতাসীনদের একটি কৌশল। তাদের দৃশ্যমান করা অত্যন্ত কঠিন। হাজার বছরের শোষণের ইতিহাস পরিবর্তনে আমাদের সবাইকে সক্রিয় সহানুভূতিশীল হতে হবে।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের (জিবিকে) প্রধান নির্বাহী মোয়াজ্জেম হোসেন, বেদে সর্দার সৌদ খান, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক চিত্ত ঘোষ, গারো নারী সুলেখা ম্রং, দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম, সাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, আদনান জিল্লুর মোর্শেদ ও চলচিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের।

স্বাগত বক্তব্যে ফিলিপ গাইন বলেন, ‘ মাত্র দুই দশকের মধ্যে সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক বনের অধিকাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের অধিকাংশের জমি মালিকানা দলিল নেই। যদি এর সমাধান না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে গারোদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।’

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর অতিথিরা গ্যালারি ঘুরে দেখেন। এর আগে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের একটি দল তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে অতিথিদের পুরো আয়োজনে স্বাগত জানান।