ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৭

অর্থমন্ত্রীর লক্ষ্য পূরণের ‘স্মার্ট’ বাজেট

https://www.ppbd.news/https:/ppbd.news/national/110379
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ১২ জুন ২০১৯, ১৬:১৭ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৯, ১৫:৫৪

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বেলা ৩টায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে আগামী বাজেট ১২ দশমিক ৬১ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়।

এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী তার জীবনের প্রথম বাজেটের শিরোনাম করেছেন ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’।

এদিকে মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর একাধিক গণমাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বাজেট উপস্থাপন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব শুরু হয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম জানান, শারীরিকভাবে অর্থমন্ত্রী এখন পুরোপুরি সুস্থ। নিয়মিত চেকআপের জন্য রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। চেকআপ শেষে হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার রাতেই বাসায় ফিরেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাজেটের সবকিছু চূড়ান্ত করেছেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে গত পাঁচ বছরের বাজেট তৈরির কাজে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সহযোগিতা করছেন তিনি। এবার প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি নিজেই পুরো বাজেট তৈরি করেছেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষায় এটি হচ্ছে স্মার্ট বাজেট।

এবারের বাজেটকে কেন স্মার্ট বাজেট বলছেন, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, 'এবারের বাজেটের আকার বাড়লেও বাজেট বক্তৃতার বই হবে সংক্ষিপ্ত। বাজেটের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী হলেও তা অর্জন করতে চেষ্টা হবে সাধ্যের মধ্যে, যা সর্বস্তরের জনসাধারণের জন্য হবে সহজপাঠ্য। দেড়শ-দুশ পাতার বাজেট বক্তৃতার বই নয়, এবার বাজেট বক্তৃতার বই সর্বোচ্চ ১০০ পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা চলছে। আর এর মধ্যেই থাকবে দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার। আমরা কাজে বিশ্বাসী।'

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেট প্রণয়ন কোনও বড় কথা নয়, বাজেট বাস্তবায়নই বড় কাজ। এটিই আমার বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু এক বছরের জন্য নয়, সূদুরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ করে ২০৪১ সালকে টার্গেট করে তৈরি হবে এবারের বাজেট। সাধারণ মানুষের জন্যই তৈরি হচ্ছে এবছরের বাজেট।’

এবারের বাজেটে ভ্যাট আইন কার্যকরসহ বেশকিছু নতুন বিষয় থাকতে পারে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করা হতে পারে ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্রসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে। ঘোষণা থাকতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির। এছাড়া বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল, কৃষকের জন্য পরীক্ষামূলক বীমা প্রকল্প এবং প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধার ঘোষণাও আসতে পারে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক অর্থমন্ত্রীর ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ‘অগ্রগতির ধারাবাহিকতা: সম্ভাবনাময় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১৬৩ পাতার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, উচ্চ প্রবৃদ্ধি রচনা’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১২৮ পাতার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য 'প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা' শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বই ছিল ১১৮ পাতার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য 'উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের পরিধি ছিল ১৫০ পাতার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট বক্তৃতার বইয়ের আকার ছিল ১৫৬ পাতার।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) ধরা হয়েছে দুই লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে করবহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও বাজেটে উল্লেখ থাকছে। আসন্ন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ঋণ নেওয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে নেওয়া হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বাজেটের সব ডকুমেন্ট ছাপা হয়ে গেছে। শেষ পর্যায়ে বাজেট বক্তৃতার বই ছাপার কাজ চলছে বিজি প্রেসে।

পিপিবিডি-এনই