ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভোটারহীন নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক: মেনন

https://www.ppbd.news/https:/ppbd.news/national/111438
BYনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ১৯ জুন ২০১৯, ১৮:৫৯ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ১৯:৫৯

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ছবি: সংগৃহীত ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, উপজেলা নির্বাচনে মসজিদে মসজিদে ঘোষণা দিয়েও ভোটারদের আনা সম্ভব হয়নি। এটা নির্বাচনের জন্য শুধু নয়, গণতন্ত্রের জন্যও বিপজ্জনক।

বুধবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আর্থিক খাতের দুরবস্থা, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা ও উন্নয়ন বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

মেনন বলেন, পাঁচ দফা উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজ দলের প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা করুণ। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং তাঁদের যোগসাজশ রয়েছে। ভোট দেওয়ার ব্যাপারে জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

মেনন বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ দেশের ওপর নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে রাজনৈতিক দল শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য যেমন, আওয়ামী লীগের জন্যও তেমন প্রযোজ্য।

বাজেট আলোচনায় মেনন বলেন, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রার পথে কাঁটা হয়ে রয়েছে আর্থিক খাতের দুর্গতি। ব্যাংক খাতে লুটপাট, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা কারও অবিদিত নয়। ঋণখেলাপির দায়ে ব্যাংকগুলো ন্যুব্জ। চলছে তারল্যসংকট। করের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি মূলধন পূরণ করার জন্য বরাদ্দ এবারও রাখা হয়েছে বাজেটে।

কালোটাকা সাদা করার সুযোগের বিষয়ে মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন টাকা যাতে পাচার না হয় সে জন্য বিনিয়োগে স্ট্রিমিং করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ যাবৎ এ ধরনের ব্যবস্থা থেকে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়নি। এতে ফ্ল্যাট-জমির দাম মধ্যবিত্তের আওতার বাইরে চলে যাবে। আর অনৈতিকতাই উৎসাহিত হবে।

মেনন বলেন, উন্নয়নের ফল মাত্র কিছু লোক পাচ্ছে, জনগণ পাচ্ছে না। সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে কিছু হাতে। ১০ শতাংশ ধনী মোট সম্পদের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এরা মূলত ‘রেন্ট সিকার’। ক্ষমতার চারপাশে বলয় গড়ে তুলেছে তারা বিভিন্ন ধরনের লুণ্ঠন, দখল-বেদখল, জোর-জবরদস্তির মারপ্যাঁচের মাধ্যমে। দেশের সব ব্যাংক, বিমা, আবাসন, এমনকি প্রবাসে লোক পাঠানো—সবই এদের হাতে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম