ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক

http://www.pbd.news/whole-country/50896/এক-মণ-ধানেও-মিলছে-না-একজন-শ্রমিক
BYতপু আহম্মেদ (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ:  ১৭ মে ২০১৮, ১৮:৫৭

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মাথায় হাত। মাঠে মাঠে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেক কৃষক। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক।

শ্রমিকদের জনপ্রতি মজুরি দিতে হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। সঙ্গে তিন বেলা খাবার। এতে গৃহস্থের শুধু ধান কাটতেই প্রতি মণ ধানের খরচ পড়ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এছাড়া জমি চাষ, সেচ, চারাম সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। বর্তমানে কালিহাতীর হাট-বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকায়। ধানের মূল্য কম থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ উপজেলার কৃষকেরা।

উপজেলার কামার্থী গ্রামের কৃষক জাহিদ হোসেন জানান, আমি এ বছর ২শ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এখন সেই জমিগুলোর ধান কাটতেছি, যে ধান পামু তাতে আমার বহুত লোকসান যাবো। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষীরা না খেয়ে মারা যাবে। কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এ বছর কামলার যে দাম,এত টেহা দিয়া কামলা নিয়া ধান কাটলে সামনে বছর পর্যন্ত কৃষক বাঁচবো কিনা সন্দেহ আছে।

কৃষক জোয়াহের আলী, অলিদ, হাসমতসহ অনেকেই জানান, বর্তমানে ধান কাটা একজন শ্রমিকের মূল্য ৭০০টাকা আর এক মণ ধানের মূল্য ৬০০ টাকা। এক মণ ধানের টাকায়ও একজন শ্রমিক মিলছে না। ফলে আমরা জমির পাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তুলতে পারছি না।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ বছর শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি থাকায় অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধান কাটার কাজ করছে। প্রতিটি এলাকায় এখন পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুর হয়েছে।

উপজেলার পৌজান গ্রামের কৃষক আজমত আলী জানান, আমি এবার ৫শ শতাংশ জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। বাজারে ধানের চাহিদা ও বাজার মূল্য অনেক কম থাকায় আমাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ. এম. শহিদুল ইসলাম জানান, বোরো ধানের বাজার মূল্য কম থাকায় হতাশ না হয়ে আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষন করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে করে সংরক্ষিত ধান পরে বিক্রয় করে দামটা ভালো পায়।

ওএফ /এফআইজে