ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৬
BYবিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস

যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে বহু আগেই আওয়াজ উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হলিউডে। বিতর্কিত প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টিনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার সেখানে শুরু হয়েছিল #MeToo আন্দোলন। পরে সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে বলিউডেও। ইতিমধ্যেই বলিউডের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া নানা বাজে অভিজ্ঞতা ও ঘটনার কথা প্রকাশ করেছেন।

সেই #MeToo আন্দোলনের মুখে অনেক তাবড়ই এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। এই আন্দোলন যে কারণে, সেই যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে অনেককেই কথা বলতে শোনা যায়। মুখে মুখে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদেরও ঝড় তোলেন। কিন্তু কীভাবে এটা প্রতিরোধ করা যায়, সেই সমাধানের কথা কি কেউ কখনো ভেবেছেন? হ্যা, বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ইমরান হাশমির কণ্ঠে শোনা গেল সেই সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত।

গোটা বলিউড তাকে ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে চিনলেও তিনিই প্রথম যৌন শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি মুম্বাই মিররকে দেয়া সাক্ষাতকারে ইমরান হাশমি জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে এই সম্পর্কিত শর্তাবলী যোগ করতে চাচ্ছেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে নারীদের যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে যে নিয়ম কানুন রয়েছে তার সঙ্গে নতুন #MeToo শর্ত যোগ করতে চান ‘আশিক বানায়া আপনে’ খ্যাত নায়ক।

এক সময়ের ‘সিরিয়াল কিসার’ ইমরান হাশমি অভিনয় থেকে দূরে সরে বর্তমানে ছবি প্রযোজনার কাজে মন দিয়েছেন। যোগ দিয়েছেন ভূষণ কুমার, অতুল কসবেকার ও তনুজ গর্গের মতো প্রযোজকদের সঙ্গে। ইমরান বলেন, ‘বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজের কনট্রাক্টে এমন শর্তাবলী দেয়া থাকে। তবে কোনো ছবি প্রযোজনা সংস্থা এমন শর্ত কোনোদিন আরোপ করেনি। হলিউডে #MeToo’র যে আগুন লেগেছিল, তা অনেক আগে বলিউডেও চলে এসেছে। সে কারণে আমার কোম্পানিতে পুরুষ-মহিলা উভয়ের জন্যই এমন শর্তাবলী আরোপ করব।’

অভিনেতা আরও বলেন, পুরুষ শাসিত সমাজে শুধু ঘৃণার থেকেই এমন ঘটনা বার বার ঘটছে না, বরং বিভিন্ন সময়ে যেসব নারীরা পুরুষ শাসিত সমাজের প্রতিরোধ করতে চেয়েছেন তারাও টার্গেট হয়েছেন। কাজেই, আমার কাছে #MeToo আন্দোলন অসাধারণ। আমি মনে করি, প্রতিটি পুরুষেরই নারীদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।’

বহু বছর পর কোনো চেনা মানুষের বিরুদ্ধে কোনো নারী যখন যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলেন, সেই বিষয়টা ইমরানের কাছে কেমন? অভিনেতার উত্তর, ‘আমি সেই নারীর পক্ষেই কথা বলব। মুখ বন্ধ করে রাখার অর্থ নিজের ট্রমাটাকেই বাড়িয়ে তোলো। কারণ, এই সুযোগে সেই শয়তানটা আরও ১০ জনকে টার্গেট করবে।’

সম্প্রতি বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলেন ইমরান হাশমির ‘আশিক বানায়া আপনে’ ছবির অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তার অভিযোগ, ২০০৮ সালে ‘হর্ণ ওকে প্লিজেস’ ছবির শুটিং সেটে নানা তাকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আনলেও ইন্ডাস্ট্রির বেশিরভাগ তারকাই তনুশ্রীর পক্ষে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ আনেন দুই পরিচালকের বিরুদ্ধেও।

এদিকে, তনুশ্রী মুখ খোলার পর আওয়াজ তোলেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও। তিনি অভিযোগ তোলেন তার ‘কুইন’ ছবির পরিচালক বিকাশ বহেলের বিরুদ্ধে। বলেন, ২০১৪ সালে এই ছবির শুটিং চলাকালে বিকাশ তাকে হাগ করার নামে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরতেন, ঘাড়ের কাছে মুখ এনে ঘষাঘষি করতেন এবং চুলের গন্ধ শুকতেন। এমনকী, বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে করা যৌন সঙ্গমের কথাও প্রতিদিন কঙ্গনাকে এসে শোনাতেন।

ঢাকাটাইমস/১২ অক্টোবর/এএইচ