ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬
BY  সোহেল আহসান ১২ জুলাই ২০১৮, ১৯:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সামিনা চৌধুরী শাস্ত্রীয় ও আধুনিক ধারার গান গেয়ে জনপ্রিয় সামিনা চৌধুরী। অসংখ্য নন্দিত গানের শিল্পী তিনি। তার কণ্ঠে ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘আমার বুকের মধ্যখানে’, ‘আমার দুই চোখে দুই নদী’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসত’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর’ গানগুলো শ্রোতাদের কাছে তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

ছোটবেলায় নতুন কুড়ি প্রতিযোগিতা দিয়ে গানের জগতে পা রাখেন এ শিল্পী। এরপর ৪০ বছর ধরে গান নিয়েই আছেন। গানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি গান এবং অন্য বিষয় নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল আহসান

সম্প্রতি আপনার বাবা কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন্নবীর নামে একটি গানের স্কুল চালু করেছেন। এ পরিকল্পনা কি আগে থেকেই ছিল?

এখনও স্কুল করিনি। স্কুল করতে তো সময় লাগে। সবাই গান শেখানোর জন্য চাপ দেয়। ভাবলাম এ জন্য একটা নাম দিয়ে কাজটি শুরু করি। তাই এটির নাম দিয়েছি ‘মাহমুদুন্নবী সঙ্গীত নিকেতন। এখনও এটার কিছুই হয়নি। এর কার্যক্রম আপাতত নিজের বাসাতেই চালাচ্ছি।

এ প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের গান আপনার কেমন লাগে?

এদের সবার গানের গলাই আমার কাছে একরকম মনে হয়। প্রত্যেকের গাওয়ার স্টাইল, থ্রোয়িং এক। তবে গাচ্ছে সবাই ভালো। এগুলো স্পেশাল কিছু নয়। স্পেশাল হলে তো উঠে আসত।

বর্তমানে শ্রোতাপ্রিয় গান কম হচ্ছে। এর জন্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন অনেকে। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আমিও একমত। এটাই সত্য কথা। অনেক ভালো গীতিকার আছেন, যাদের গান নেয়া হয় না। ভালো গানের সংখ্যা তাই কমে গেছে। মিউজিক ভিডিওতে শুধু মডেলদের দেখান আর আকাশ-বাতাস দেখান হয়। গানের কথা ভালো না হলে গান কখনই টিকবে না। আর স্পেশাল গলা না হলে অন্তত আমার কাছে গ্রহণীয় নয়। এখন বাংলাদেশে দেশীয় শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার শিল্পীদের গান হচ্ছে বেশি। কলকাতার শিল্পীদের গান তো গানই নয়, সেগুলো শোনার মতো হয় না। বাংলাদেশেও এ রকম গান হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই। আমার সকাল, সন্ধ্যা বিকাল- এগুলো গান নাকি! এগুলো কোনো গান না। এগুলোকে প্রমোট করাই ঠিক না।

কণ্ঠশিল্পী হতে হলে কীভাবে তৈরি হতে হবে বলে আপনি মনে করেন?

আমি নিজেও জানি না কীভাবে শিল্পী হতে হয়। আমি শুধু জানি ভালো গান গেয়ে মানুষের কাছে সেটি উপস্থাপন করতে হবে। কিছু হবে বলে গান গাইতে আসিনি। আসাও উচিত নয়। যখন গানের জগতে এসে যাব তখন গানের মানটা রাখতে হবে, ভালো গান গাইতে হবে। ভালো করে উচ্চারণ করতে হবে। ভালো গান পছন্দ করতে হবে। গান গাইতে না পারলে শুধু শুধু এখানে এসে সময় নষ্ট করার কোনো কারণ দেখি না। যেটা আমাদের বাংলাদেশে এখন নিয়ম ধরে চলছে। সবাই গান গায়। যাদের চেহারা ভালো তারা গান গায়। তারা অভিনয়ে না গিয়ে কেন যে গান গায়, আমি জানি না। প্রত্যেকে গান গায় এখন। আর সবাই যন্ত্রশিল্পী। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দেশ। এখানে সবাই সব কিছু করে।

নতুন কোনো গানের অ্যালবামে কাজ করছেন?

নতুন কোনো গানের অ্যালবামে এখন কাজ করছি না। বেশ কিছু নতুন গানের কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। ওগুলো শেষ করার আগে আর নতুন কোনো গানের কাজে হাত দিচ্ছি না।

ছোটবেলা থেকেই আপনার অভিনয়ের প্রতি বেশি অনুরাগ ছিল। অভিনয়ে নিয়মিত হলেন না কেন?

গানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রায় ৪০ বছর থেকে। তবে ছোটবেলায় অভিনয়টাই নিয়মিত করতাম। তখন আমি গান গাইতাম না। রেডিও এবং টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করতাম। পাশাপাশি খবর পড়তাম। এগুলো ছিল আমার ভালোলাগার কাজ। এ ছাড়া আমি হারমোনিয়াম, কিবোর্ড বাজাতাম। কারণ আমার এগুলোই ভালো লাগত। ভাগ্যের জোরে আমি গানে চলে আসি। এ জন্য আমি চেষ্টা করি, যখন গান গাই তখন পরিষ্কারভাবে গান করতে। আমার গান শুনে যদি শ্রোতারা প্রশান্তি পায়, সেটাই আমার বড় অর্জন। আমার লক্ষ্য হল শ্রোতাদের ধোঁকা দিতে চাই না। এটা আমি শিখিনি আমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে। এটাই হচ্ছে আমার মৌলিক ব্যাপার।