ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৭
BYরাসেল মাহ্‌মুদ
১২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:১৭

শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার উঠোনে মঞ্চস্থ হবে আশীষ খন্দকার নির্দেশিত নাটক ‘দুই আগন্তুক বনাম করবী ফুল’। স্পেস অ্যান্ড অ্যাক্টিং রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে অদ্ভুত ঘরানার গল্পের মোড়কে নির্দেশক সেখানে দেখাবেন এই সময়ের জীবন বাস্তবতা। নিজের এই নাটক ও ঢাকার নাট্যাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

আপনাকে অনেক দিন বা নিয়মিত বা প্রায়ই পাওয়া যায় না কেন? এক সময় অনেক কাজ করেছি। এখন করতে পারি না, এর কিছু কারণ আছে। নিজের কাজগুলো নিয়ে দর্শকের মুখোমুখি হতে পারি না কিছু প্রতিবন্ধকতার জন্য। সেটা যে অর্থনৈতিক ব্যাপার, তা নয়। আমি তিনটি প্রজন্মকে ফেস করছি। এটা আমার চতুর্থ নাটক। যে সময়ে আপনি আমার কাজ দেখেননি, সেই সময়ে তিনটা নাটক আমি নামাতে পারিনি নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে। আর এটা এক ধরনের ডেসটিনি ছিল।ছোট্ট করে প্রতিবন্ধকতাটির কথা বলবেন? থিয়েটার এখন একটা স্ট্রাগলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এটাই থিয়েটারের চরিত্র বটে। পাশের দেশ বা উন্নত দেশগুলোতে থিয়েটারের একটা পেশাদারিত্ব তৈরি হয়েছে। আর আমাদের এখানে বাজারটা ছোট হয়ে গেছে। যে যার মতো অনেকগুলো উইং খুলে বসেছে। একাধারে মঞ্চগুলোকে তারা কলাপ্স করে ফেলেছে নিজেদের জন্য। হল বরাদ্দের বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ের লোকেদের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ কূটসমাজের ভেতর একধরনের পঞ্চায়েতীকরণ আছে। সেখানে স্থূল বিষয়গুলো কাউকে কোনো একটা জায়গায়...ওই ফর্মটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির চরিত্র। ইন্ডাস্ট্রিই বলা যায়, না? অগ্রজ অভিনেতা ও মাননীয় মন্ত্রী যখন অভিনয় করছেন তখন টিকিটের জন্য কাড়াকাড়ি পরে যাচ্ছে না? সেখানে আমরা প্রতিপক্ষ হয়ে যাচ্ছি। আমাদের রাষ্ট্র ঠেকিয়ে রাখেনি, আমলাতন্ত্র ঠেকিয়ে রাখেনি। আমরা সবাই এখন আত্ম সংঘর্ষে লিপ্ত। শেক্‌সপিয়ারের ‘কিল ইছ অ্যান্ড আদার’-এর মতো। আমার নাটকের কাহিনিও সে রকম।আপনার ‘দুই আগন্তুক বনাম করবী ফুল’ নাটকের ঘটনাটি কী নিয়ে? এই নাটকে আমি একটা টাইমলেস পিরিয়ড থেকে সমসাময়িক জীবনের কথা বলেছি। সীমা থেকে অসীমের গল্প বলেছি, কিন্তু সেটা বর্তমানের গল্প, আমার গল্প, আপনার গল্প। পুরোটাই একটা মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা। ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ, বড়জোর চল্লিশ মিনিটের হবে নাটকটি। কাল (শুক্রবার) যেটা হবে, সেটা এনভায়রনমেন্টাল ভার্সন। এর একটি স্টুডিও ভার্সনও আছে।এনভায়রনমেন্টাল ভার্সন ব্যাপারটি কেমন? কোথায় করছেন? আলিয়ঁসের মূল গেট থেকে ঢোকার মুখে যে উঠোন, সেখানেই হবে নাটকটি। ফোর কোর্ট বলে এ জায়গাটাকে। মূল ফটক খুললে যা দেখা যায় সেটাই আমাদের নাটকের সেট। একটা কামিনী গাছ আছে। হাই লেভেলটাকে জাহাজের পাটাতন হিসেবে দেখাচ্ছি। সেটার পেছনে তারকাটায় ছাওয়া একটা বাড়ি আছে। সেটার পেছনে ল্যাব এইডের শহর, যেখান থেকে শব্দদূষণ ও ভয়ংকর এক জীবনব্যবস্থাকে দেখে নাটকের দুই চরিত্র। কিন্তু সেই শহরেই ঢুকতে চায় দুই আগন্তুক। কিন্তু তাঁরা সেই শহরে যাওয়ার চাবি হারিয়ে ফেলে এবং পরস্পরকে অবিশ্বাস করতে থাকে। পরে একটি সরাইখানায় মামুলি ইনসান নামের এক লোকের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। সে আসলে একটা প্রচ্ছায়া। সহজ সরল গল্প হিসেবে দেখলেই নাটকটিকে বোঝা যাবে।
গল্পটাকে কোথায় পেলেন? গল্পটা আমার। একটা পেইন্টিং থেকে গল্পের অনুপ্রেরণা পেয়েছি। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, টেবিলের ওপর একটা জলরঙের চিত্রকর্ম। আমার মেয়ে মৃণ্ময়ী আশীষের আঁকা। সেটার ভেতরের প্রচ্ছায়ায় চারজন মানুষকে আবিষ্কার করি। এটাই আমার প্রেরণা ছিল। ছবিটার রং, রঙের আঁচড়গুলো, ফ্রেম, ফিগারগুলো আমার ভেতরে এক ধরনের অনুকম্পন তৈরি করেছিল। এক সময় মনে হলো, নাটকটি করা যায় কি না। শুরু করি কর্মশালা। কখনো রূপকথার চাবি, কখনো তলোয়ার আবার কখনো বাক্স নিয়ে আসি। এভাবে বিভিন্ন অবজেক্ট থেকে ছবি নির্মাণ করি। এটা একটা পোর্টেবল প্লে, অনেকটা ল্যাপটপের মতো।প্রথম প্রদর্শনী মিস করলে পরে আবার দেখার সুযোগ হবে? আগামী ১৬ অক্টোবর পঞ্চগড়ে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী হবে। পরে ঢাকায় ফিরে হয়তো আরও কয়েকটি প্রদর্শনী করব।