ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়ের ওপর

http://dainikamadershomoy.com/lifestyle/125287/ক্যানসারের-চিকিৎসা-নির্ভর-করে-রোগের-পর্যায়ের-ওপর
BY  অধ্যাপক ডা. মো. ইয়াকুব আলী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

খাদ্যনালির ক্যানসার হলো এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, যা প্যারাপ্লাজমের মাধ্যমে খাদ্যনালির যে কোনো অংশে অথবা পরিপাকতন্ত্রে হয়ে থাকে। পরবর্তীকালে শরীরের অন্যান্য অংশে তা ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যনালির ক্যানসার চার ধরনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি হওয়ার ধরনটির নাম স্কোয়ামাস সেল। এটি হওয়ার হার ৯০ শতাংশেরও বেশি এবং এটির মেটাস্টাসিস প্রসেস দীর্ঘস্থায়ী হয়। এ কারণে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ইত্যাদি মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। অন্য ধরনগুলো খুব কম দেখা যায়। যেমনÑ এসোফ্যাগাসেরর এডিনোকার্সিনোমা , স্মল সেল আনডিফারেনশিয়েটেড কার্সিনোমা ও কারসিনোকার্সিনোমা। এগুলোর প্রভাব অত্যন্ত প্রকট হয়ে থাকে।

হওয়ার কারণ : বিভিন্ন কারণে এ ক্যানসার হতে পারে। যেমনÑ শারীরিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, বংশগত ইত্যাদি। তবে প্রধানত অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পদ্ধতি এর জন্য বেশি দায়ী।

রোগের লক্ষণ : খাদ্যনালির ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো স্পষ্ট নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডায়াগনোসিস করার সময় এ ক্যানসার বেশি ছড়ায়। সার্জারি করার পর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ। তাই ক্যানসারের লক্ষণগুলো সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে এবং প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ক্যানসারের প্রধান লক্ষণগুলো হলোÑ গলধঃকরণের সময় বুক জ্বালাপোড়া বা সুচের মতো কোনো কিছু অনুভূত হওয়া। খাবার খেতে প্রচ- অসুবিধা হওয়া এবং সঙ্গে বমি হওয়া, পেটব্যথা করা বা ওজন অতিমাত্রায় হ্রাস পাওয়া। খাবার খেতে অসুবিধা হওয়ায় পুষ্টিহীনতা দেখা দেয় এবং শরীর শুকিয়ে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিণত পর্যায়ে কিছু জটিলতা, যেমনÑ মেটাস্টাসিস বা অসহনীয় ব্যথা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ শুধু খাদ্যনালির ক্যানসারই নির্দেশ করে না, অন্য রোগও নির্দেশ করতে পারে। তাই যা-ই হোক, লক্ষণগুলো দেখা মাত্র দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ক্যানসারের পর্যায়

প্রাথমিক পর্যায় : এ পর্যায়ে ক্যানসার কোষ কোনো ধরনের ম্যালিগন্যান্ট ছাড়াই অন্য কোষগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক অবস্থায় খাদ্যনালির বহিঃত্বকে থাকে।

প্রথম পর্যায় : এ পর্যায়ে ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসার কোষ বহিঃত্বক ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির নিচের স্তরে পৌঁছে। তবে পেশির স্তর তখনো ভেদ করে না। এ পর্যায়ে ক্যানসার কোষ লসিকাগ্রন্থি বা অন্য কোনো প্রত্যঙ্গে ছড়ায় না।

দ্বিতীয় পর্যায় : এ পর্যায়ে ক্যানসার লসিকাগ্রন্থিতে প্রবেশ করে। কিন্তু অন্য কোনো প্রত্যঙ্গে ছড়ায় না।

তৃতীয় পর্যায় : এ পর্যায়ে ক্যানসার খাদ্যনালি সংলগ্ন শ্বাসনালিতে আক্রমণ করে। কিন্তু এটির সংলগ্ন লসিকাগ্রন্থি সুরক্ষিত থাকে এবং আশপাশে তখনো ক্যানসার ছড়ায় না।

চতুর্থ পর্যায় : এ পর্যায়ে ক্যানসার রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে হাড়, লিভার এমনকি মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা : ক্যানসারের পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ করে রোগীর জীবনকাল বাড়ানো সম্ভব। তবে পরিণত পর্যায়ে চলে গেলে শুধু ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি রোধ করে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে একাধিক বা সম্মিলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ধারণ করে থাকেন চিকিৎসকরা।

লেখক : টিউমার ও ক্যানসার রোগ বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৯১৯০১৭৪২৭, ০১৭৩২৪২৯৩৯০