ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে হচ্ছে আরেকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল

http://www.dhakatimes24.com/2018/06/05/83837/বঙ্গবন্ধু-মেডিকেলে-হচ্ছে-আরেকটি-বিশেষায়িত-হাসপাতাল
BYনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভেতরে একটি ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি এন্ড সুপার স্পেশালাইজড’ হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডা. মিল্টন হলে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে প্রকল্প পরিচালক, বিএসএমএমইউ’র সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খান এবং হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পক্ষে কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার জং চল সিন চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি চালু হলে দেশেই রোগীদেরকে আরো উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধাদি প্রদান করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসএমএমইউয়ের উত্তর দিকে ১২ বিঘা জমির ওপর এ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এই বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশেষায়িত ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং গবেষণা করা হবে।

চুক্তিপত্র স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কোরিয়ান সরকার, কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও চার বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি এন্ড সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই হাসপাতাল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়টি অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং রোগীদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা আরো কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো গতিশীল ও উন্নত করা, দেশের রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা এবং সর্বোপরি তুলনামূলক সাশ্রীয় খরচে বা স্বল্প ব্যয়ে দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা রোগীদের প্রদানের লক্ষ্যে এ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে থাকবে লিভার গল ব্লাডার ও প্যানক্রিস সেন্টার, অরগান ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার, ক্যান্সার সেন্টার, ম্যাটারনাল এবং চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ডেন্টাল সেন্টার, কারডিও ভাসকুলার,নিউরোসার্জারি সেন্টার, এনড্রোক্রানোলজি ডায়াবেটিস সেন্টার, রেসপাইরেটরি সেন্টার, জেরিআট্রিক (বয়স্কদের চিকিৎসা) সেন্টার, জয়েন্ট,স্পাইন কর্ড সেন্টার, হার্ট সেন্টার, বার্ন ইনজুরি সেন্টার, হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টার, ইমারজেন্সি মেডিক্যাল সেন্টার, এমবুলেটরি সার্জারি সেন্টার এবং কিডনি মেশিন সেন্টার (হিমোডায়ালাইসিস সেন্টার) উল্লেখযোগ্য। এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্র হবে এবং এখানে সব ধরণের গবেষণা উপযোগী আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে। বর্তমানে যেসব পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বিদেশে যেতে হয় এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে দেশেই সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে। দেশে উন্নততর চিকিৎসা বিদ্যা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের জন্য অত্যাধুনিক পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ব্যবস্থা থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ শিকদার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. গাজী শামীম, পরিচালক (হাসপাতাল) বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন, পরিচালক (মানবসম্পদ) ডা. জামাল উদ্দিন খলিফা, হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রোজেক্ট ম্যানেজার ডে ইয়ং লি সিনিয়র ম্যানেজার সং জাংগ সো, কনসালটেন্ট ও সানজিন কোম্পানির প্রকৌশলী ও আর্কিটেকচার শ্রীকান্ত রায় প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নামের প্রকল্পটি অনুমোদন দেন।

ঢাকাটাইমস/০৫জুন/এএ/ইএস