ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হাসপাতালে ধর্মঘট ডাকতে ইমেইল ব্যবহারের ঘটনায় কমিটি

http://www.dhakatimes24.com/2018/07/10/88352/হাসপাতালে-ধর্মঘট-ডাকতে-ইমেইল-ব্যবহারের-ঘটনায়-কমিটি
BYব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) সরকারি ইমেইল ব্যবহার করে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধের প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বিষয়টি ঢাকাটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অশোক দত্তকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন ভিত্তিতে দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির’ কাজে মেডিকেল কলেজের ইমেইল আইডি ব্যবহারের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এ ঘটনায় চমেকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

রবিবার (৮ জুলাই) বিকাল পাঁচটা চার মিনিটের দিকে গণমাধ্যমে ধর্মঘট ডাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠায় বেসরকারি চিকিৎসা সমিতি। তা নিয়ে মঙ্গলবার (১০জুলাই) সকালে বেসরকারি হাসপাতালে ধর্মঘট প্রচারে ‘সরকারি ইমেইল শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে ঢাকাটাইমস।
তাতে দেখা দেখা যায় যে ইমেইল অ্যাড্রেসটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের- [email protected]। সেন্ডারের নামের জায়গায় রয়েছে- Chittagong medical college। আর বিষয়ের জায়গায় লেখা- বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির বিজ্ঞপ্তি। আর ইমেইলের একেবারে নিচের দিকে বার্তাপ্রেরক হিসেবে ডা. আবুল কাশেমের নাম রয়েছে। যিনি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির সভাপতি।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির সভাপতি চিকিৎসক আবুল কাশেম দায় অস্বীকার করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, তাদের সমিতির নির্ধারিত প্যাডে লিখে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি দিয়ে এসেছিলেন বিএমএর কাছে। তাদেরই কেউ হয়তো এই ইমেইল থেকে পাঠিয়ে থাকতে পারেন।

আর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মো. জাহাঙ্গীর ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ওই সময় আমি রাঙ্গামাটিতে পরীক্ষার কাছে ব্যস্ত ছিলাম। অন্যজন কলেজের দায়িত্বে ছিলেন। রাঙ্গামাটি থেকে ফিরে দায়িত্বরত অপারেটর ও জড়িত ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে শোকজ করব।’

সম্প্রতি চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করে দেয়া কমিটির তদন্তে। এই ঘটনায় তিন জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ এসেছে।

আবার রবিবার নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়ম ঠেকাতে র‌্যাব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ওষুধ প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এর প্রতিবাদে হঠাৎ করে নগর ও জেলায় স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ ঘোষণা করে বেসরকারি হাসপাতালগুলো।

এদিন বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে এ ঘোষণা গণমাধ্যমে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সরকারি ইমেইল ([email protected]) থেকে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির নিচে বার্তা প্রেরক হিসেবে ‘বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির’ সভাপতি পরিচয়ে আবুল কাশেমের নাম ছিল।

২৪ ঘণ্টার রোগী ভোগান্তি শেষে সোমবার দুপুরে সমিতি ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়। এর কিছুক্ষণ পর অন্য একটি রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। চিকিৎসা পেশায় দুর্বৃত্ত ঢুকেছে বলেও পর্যবেক্ষণ দেয় হাইকোর্ট বেঞ্চ। বিচারকরা বলেন, নিজেদের দোষ ঢাকতে চিকিৎসকদের ধর্মঘটে যাওয়া অন্যায়।

ঢাকাটাইমস/১০জুলাই/ব্যুরো/ডিএম