ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৬

যৌনরোগ ‘এমজি’ হতে পারে পরবর্তী মরণব্যাধি

http://www.dhakatimes24.com/2018/07/12/88556/যৌনরোগ-এমজি-হতে-পারে-পরবর্তী-মরণব্যাধি
BYঢাকাটাইমস ডেস্ক

সতর্ক না হলে এখনকার স্বল্প পরিচিত যৌনবাহিত রোগ মাইকোপ্লাজমা জেনিটালিয়াম বা সংক্ষেপে এমজি সামনের দিনগুলোতে মরণব্যাধি হয়ে উঠতে পারে। এই রোগটার প্রায়শই কোনও লক্ষণ ধরা পড়ে না।

কিন্তু শ্রোনী প্রদাহজনিত রোগের জন্ম দিতে পারে যা একজন নারীকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম করে দিতে পারে। নারীদের শ্রোণী অঞ্চলে যে অঙ্গগুলো থাকে তা হল- অন্ত্র, মুত্রাশয়, জরায়ু ও ডিম্বাশয়।

সঠিক চিকিৎসা না করালে এমজি জীবানু শরীরে থেকে যেতে পারে যা শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। আর সে কারণেই ব্রিটিশ এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি এ বিষয়ে নতুন পরামর্শ দিয়েছে।

এমজি আসলে কি?

এটি একটি ব্যাকটেরিয়া যা পুরুষের মুত্রনালীতে প্রদাহ তৈরির কারণ হতে পারে যা পুরুষাঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার ফলে মুত্রত্যাগের সময় ব্যথা অনুভূত হবে। আর নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়সহ প্রজনন অঙ্গগুলোতে প্রদাহ হতে পারে যার মধ্যে প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বর হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণেরও সম্ভাবনা আছে।

ইতোমধ্যেই এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত কারও সাথে যৌন সম্পর্ক হলে এ রোগ আরেকজনের মধ্যেও ছড়াতে পারে। আর সে কারণেই যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কনডমের ব্যবহার রোগটি থেকে মুক্ত থাকার সহজ উপায় বলে বলা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে ১৯৮০ সালে প্রথম রোগটি সনাক্ত হয়েছিলো। এখন এ রোগটিকে উদ্বেগজনক বলে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা হতে পারে কিন্তু সংক্রমক ব্যাকটেরিয়া এখন ক্রমশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে।

এমজিতে সংক্রমিত হওয়া এক ব্যক্তি নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'নতুন পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির পর আমার এমজি ধরা পড়ে। সম্পর্কের শুরুতে দুজনেই কিছু পরীক্ষা করিয়েছিলাম এবং তখন কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে লক্ষণ না থাকায় এমজির টেস্ট করায়নি ক্লিনিক'।

এরপর নতুন সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক শুরুর একমাসের মাথায় সমস্যা বোধ করতে শুরু করেন ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, 'মুত্রত্যাগের সময় অনেক ব্যাথা হচ্ছিলো। কিন্তু সমস্যাটি কোনোভাবেই বুঝতে পারছিলাম না। কয়েক সপ্তার মধ্যেই পরীক্ষা করে এমজির অস্তিত্ব পাই। তবে আমার সঙ্গীর তখনো ধরা পড়েনি। পরে আবার পরীক্ষার পর তার শরীরেও এমজির অস্তিত্ব পাওয়া যায়'।

এরপর দু'সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন ও অন্তত পাঁচ সপ্তাহ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন যাতে করে রোগটি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন জন। কিন্তু পরে আবারও এটি ফিরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে এবং সেজন্য বেশকিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে আবার।

কনডম ব্যবহার

ব্রিস্টলের যৌন বিষয়ক পরামর্শক ড. পিটার গ্রীনহাউস লোকজনকে আগেই সতর্ক হয়ে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলছেন রোগটি সম্পর্কে জানতে এটাই সময়।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে?

ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভির নীতিমালায় বলা হয়েছে লক্ষণ দেখা গেলে রোগীরা যাতে পরীক্ষা করে সঠিকভাবে এবং চিকিৎসা নেয়। নারীদের মধ্যে যারা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিতে আছে তাদের ডায়াগনস্টিক ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সরঞ্জাম প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য নিয়ে সম্ভাব্য জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সরকারকে অর্থ বরাদ্দের আহবান জানিয়েছে ব্রিটিশি এসোসিয়েশন অফ সেক্সুয়াল হেল্থ অ্যান্ড এইচআইভি। তবে জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এমজি পরীক্ষা বা ঔষধ প্রতিরোধী হয়েছে কি-না তা পরীক্ষার সুযোগ সহজলভ্য আছে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ড. হেলেন ফিপার বলেন, 'লক্ষণ দেখা গেলে স্থানীয় সেক্সুয়াল হেলথ ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছি'। তিনি বলেন, 'নতুন বা পুরনো সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করেই এর প্রতিরোধ সম্ভব'। সূত্র: বিবিসি

ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/একে/ডিএম