ঢাকা, রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিএসএমএমইউর স্পেশালাইজড সেবার টিকিট যেন ‘সোনার হরিণ’

https://www.jagonews24.com/health/news/540751
BYবিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বহির্বিভাগ ভবন-১ এর গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবেশ পথের একপাশের সীমানার দেয়ালে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন বিভিন্ন বয়সী শতাধিক নারী। তাদের প্রায় সবার হাতে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, এক্সরে, সিটিস্ক্যান, এমআরআই কিংবা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত রিপোর্টের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

হাসপাতালের আন্ডারগ্রাউন্ডে যানবাহন প্রবেশপথে যতদূর চোখ যায় তত দূরই নারীদের চোখে পড়ে। আর ওপরে হাসপাতালের আউটডোর ভবনে প্রবেশপথের রাস্তা থেকে ভেতরে পুরুষদের বিশাল লম্বা লাইন। কেউ বেঞ্চে বসে আবার কেউবা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু নারী ও পুরুষদের কেউই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করছেন না। তারা সবাই দুপুর আড়াইটা বাজার অপেক্ষায়। আড়াইটা বাজলে বিএসএমএমইউয়ে ২০০ টাকার বিনিময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ (বৈকালিক সেবা) পাওয়ার কাঙ্ক্ষিত টিকিটের জন্য তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে।

শুধু আউটডোর ভবন-১-তে নয়, আউটডোর ভবন-২ এও টিকিটের জন্য এমন লম্বা লাইন চোখে পড়ে।

উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সকাল থেকেই অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবুও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাবেন কি না তা জানেন না।

এ দৃশ্যপট আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার। আউটডোর-১ ভবনে উপস্থিত দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীরা জানালেন, ২০০ টাকার বৈকালিক চিকিৎসাসেবা পেতে প্রতিদিনই এমন লম্বা লাইন থাকে। প্রতি বিভাগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন রোগী দেখা হয়। চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম, তাই তা পাওয়া যেন অনেকটা সোনার হরিণের মতো হয়েছে। মেডিসিন, হেমাটোলজি, পেডিয়াট্রিক, নিউরোলজি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী টিকিট না পেয়ে মন খারাপ করে ফেরত যাচ্ছেন বলে জানান।

২০১১ সালে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের উদ্যোগে সে বছরের অক্টোবর থেকে বিএসএমএমইউতে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়। মোট ২৪টি বিভাগে একজন করে অধ্যাপক বা সহযোগী, সহকারী অধ্যাপক ও বিভিন্ন কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকরা রোগী দেখেন। তবে শুরুর পর থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় টিকিট সংখ্যা বাড়েনি।

এমইউ/জেডএ/এমএস