ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

সরকারি হাসপাতালে কেনাকাটায় দুর্নীতি: দোষীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করুন

https://www.jugantor.com/todays-paper/editorial/266315/সরকারি-হাসপাতালে-কেনাকাটায়-দুর্নীতি-দোষীদের-বিচার-ও-শাস্তি-নিশ্চিত-করুন
BY  সম্পাদকীয় ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি আশা জাগানিয়া সংবাদ হল, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের কেনাকাটায় দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ১৫০ জনের তালিকা ধরে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তবে এর বিপরীতে উদ্বেগজনক হল, এর মধ্যে অন্তত ৩০ জন চিকিৎসক এবং ৭-৮ জন রয়েছেন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদমর্যাদার।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনস্থ বিভিন্ন কার্যালয়ে কিছু দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দুর্নীতির শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছে, যারা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওষুধ, সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গঠন করে স্বাস্থ্য খাতে জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ সরকারি বাজেটের ৭০-৮০ ভাগই হাতিয়ে নিচ্ছে।

বস্তুত তাদের দুর্নীতির কারণেই প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য খাতের এ অরাজকতা রোধে সরকারের শক্ত ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির যেসব তথ্য সময়ে সময়ে উদঘাটিত হয়ে থাকে, তা এক কথায় ভয়াবহ। দেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম হল স্বাস্থ্য খাত- এমন কথা সর্বসাধারণ্যে প্রচলিত রয়েছে। বলা চলে, তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিযোগিতা।

স্বাস্থ্য খাতে সব ধরনের কেনাকাটা, নিয়োগ, পদায়ন, বদলিসহ এমন কোনো কাজ নাকি নেই, যেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি হয় না। একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের সমন্বয়ে স্বাস্থ্য খাত ঘিরে অপ্রতিরোধ্য যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, সর্বত্র তাদের সরব পদচারণা লক্ষ করা যায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, সিএমএসডি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এবং নার্সিং অধিদফতর ছাড়াও প্রতিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস, সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সব স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে সিন্ডিকেটের লোকজন।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে আলোচনায় আসা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মচারী আবজাল এ সিন্ডিকেটেরই একজন ছিল।

স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করলেও দেখা যাচ্ছে- সরকার যেভাবে চিন্তা করছে; বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না।

এর বড় কারণ স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান দুর্নীতি। স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির মাত্রা নাকি এমন স্তরে পৌঁছেছে, এ বিষয়ে এখন আর কারও মধ্যে কোনো রাখঢাক নেই। দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। স্বাস্থ্য খাত থেকে দুর্নীতির জঞ্জাল দূর করতে হলে দুদককে অবশ্যই অনমনীয় ও কঠোর হতে হবে।

দুর্নীতি হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান অন্তরায়। সুতরাং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।

দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিস্তৃতি রোধ করতে হলে এমন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে দুর্নীতিবাজরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। অবশ্য শুধু আইন নয়, দেশ থেকে দুর্নীতি হটাতে জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি।

নাগরিকরা যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়; তবে সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল হতে বাধ্য। সরকারি হাসপাতালে কেনাকাটায় লুটপাট ও দুর্নীতির যে রাজত্ব কায়েম হয়েছে, তার মূলোৎপাটন করতে ছোট-বড় সব পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।