ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
BY  ডা. মোহাম্মদ আলী ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি- সংগৃহীত নিজের ও ছেলের দুটি সংসারই দু’হাতে সামাল দেন হালিমা খাতুন। পঞ্চান্ন বছর বয়সেও কাজে কোনো ক্লান্তি নেই। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে নাতিকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া, স্কুল থেকে নিয়ে আসা সবই তিনিই করেন। ভালো ছিলেন, যদিও বছর দুয়েক হোল সুগার হাই।

খাবার নিয়ন্ত্রণ আর একটা ওষুধ খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিকালে ত্রিশ মিনিট হাঁটেন। কয়েক মাস ধরেই হাঁটতে গেলে ক্লান্তি লাগে, কোমরটা ধরে আসে।

গত কয়েকদিন দশ পনেরো মিনিট হাঁটার পরই পায়ের রগে টান ধরে, হাঁটা থামিয়ে বসে পড়তে হয়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেই ব্যথা চলে যায়। শুয়ে বা বসে থাকলে কোমরে কোনো ব্যথাই অনুভব করেন না। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা হাঁটলেই ব্যথাটা শুরু হয়।

ইদানীং আর সইতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেন, চিকিৎসক একটা এক্স-রে করালেন। সমস্যাটা সহজেই ধরা পড়ল; লাম্বার স্পন্ডাইলোলিসথেসিস- সহজ করে বললে কোমরের একটি হাড় আরেকটি হাড়ের ওপরে উঠে যাওয়া।

এ সমস্যার সাধারণত তিনটি গ্রেড থাকে। গ্রেড-১, ২, ৩। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্রেড ১, ২-তে অপারেশন প্রয়োজন হয় না।

চিকিৎসা : প্রথমেই বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে হবে। সামনে ঝুঁকে কাজ, ভারী কাজ পরিহার করতে হবে। ব্যথা অসহনীয় থাকলে টেইলর ব্রেস নামক কোমরের বেল্ট ব্যবহার করলে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।

ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ইলেকট্রোথেরাপি প্রয়োগ করতে হবে। রোগীকে বিশেষায়িত ক্লিনিকে ভর্তি রেখে দিনে তিনবার ইলেকট্রোথেরাপি দিতে হবে। তবেই দ্রুত তীব্র ব্যথা কমে আসবে। তা ছাড়া ম্যানুপুলেশন করেও এ ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষ ধরনের ব্যায়াম করে তলপেট ও কোমরের মাংসপেশি শক্তিশালী করতে হবে। তবেই কমে আসা ব্যথা আর ফিরে আসবে না। হাঁটতে অসুবিধা হলে ওষুধ সেবন করে ও খাবার নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিসকে বশে আনতে হবে। যদি ব্যথা কোনোভাবেই না কমে এবং চিকিৎসক মনে করেন এটি গ্রেড ৩-এর স্পন্ডাইলোলিসথেসিস তবে তাকে শল্যচিকিৎসকের কাছে রেফার করতে পারেন।

লাম্বার স্পন্ডাইলোলিসথেসিস থেকে সম্পূর্ণ নিস্তার পাওয়া কঠিন। যে কোনো সময় এ ব্যথা আপনাকে ভোগাতে পারে। তাই চিকিৎসা করে ব্যথা ভালো হয়ে যাওয়ার পরও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

ডা. মোহাম্মদ আলী

চিফ কনসালট্যান্ট

হাসনা হেনা পেইন রিসার্চ সেন্টার , উত্তরা, ঢাকা।

মোবাইল ফোন : ০১৮৭২ ৫৫৫ ৪৪৪