ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
BY  প্রফেসর ডা. মো. তৌফিকুর রহমান (ফারুক) ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত উচ্চরক্তচাপের সাধারণত কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত বংশগত কারণে, পাতে লবণ বেশি খাওয়ার অভ্যাসের কারণে, অতিরিক্ত ওজনের কারণে, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই উচ্চরক্তচাপ হতে পারে বা সম্পর্ক থাকতে পারে, বাকি মাত্র শতকরা ৫ ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপের সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় এবং যা চিকিৎসা করলে রোগীর উচ্চরক্তচাপ পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়, এমনকি রোগীকে আর উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নাও লাগতে পারে।

সাধারণত কিডনিতে সমস্যা হলে, হরমোনজনিত সমস্যা হলে, হৃদযন্ত্র থেকে বের হওয়া বড় মহাধমনিতে ব্লক হলে সেকেন্ডারি উচ্চরক্তচাপ হতে পারে। উচ্চরক্তচাপের কিছু পরিবেশগত কারণ, কিছু জেনেটিক বা বংশগত কারণ ও কিছু চাইল্ডহুড বা শৈশবগত কারণ।

পরিবেশগত কারণের মধ্যে অত্যধিক ওজন, শারীরিক পরিশ্রমে অলসতা, খাবারে লবণের আধিক্য ও অত্যধিক মদ্যপান করা। শরীরের ওজনের সঙ্গে উচ্চরক্তচাপের সরাসরি সম্পর্ক আছে। হালকা ধরনের ব্যায়াম করলেও উচ্চরক্তচাপের মাত্রা কমে।

অতিরিক্ত লবণ খেলে শুধু রক্তচাপই বাড়ায় না, ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ায়। খোদ আমেরিকাতে মদ্যপান ১০ ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপের কারণ।

অতিরিক্ত লবণ যেমন রক্তচাপ বাড়ায় তেমনি বেশি পটাসিয়ামযুক্ত খাবার এ রক্তচাপ বাড়ানোর প্রবণতা প্রতিরোধ করে। তাই আমাদের লবণযুক্ত খাবার কমিয়ে বেশি পটাসিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত।

কিছু কিছু ওষুধ বা খাবার আছে যা রক্তচাপ বাড়ায় বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয় যেমন মদ্যপান, ইয়াবা বা এমফিটামেন জাতীয় ওষুধ, কিছু ওষুধ যা ডিপ্রেসন কমায়, কফি পান, নাকের সর্দির ওষুধ, কিছু ভেষজ ওষুধ, কিছু শরীর ব্যথার ওষুধ, কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ, কিছু স্টেরয়েড ও কিছু ফুর্তি করার ওষুধে রক্তচাপ বাড়তে পারে। জন্মের সময় ওজন কম থাকা, অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করা, নিু আর্থ-সামাজিক অবস্থান, অতিরিক্ত মানসিক ও সামাজিক চাপ থাকলেও রক্তচাপ হতে পারে।

প্রফেসর ডা. মো. তৌফিকুর রহমান (ফারুক)

মেডিসিন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ

মেডিনোভা মেডিকেল, মালিবাগ, ঢাকা।

মোবাইল : ০১৭৭৭৭৫১২৫১