ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ

https://www.ntvbd.com/health/205211/পানিবাহিত-রোগ-প্রতিরোধে-পরামর্শ
BYফিচার ডেস্ক
১১ জুলাই ২০১৮, ১৭:৪০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৮, ১৮:০৮

পানির মাধ্যমে যে রোগ ছড়ায়, সেগুলোই সাধারণত পানিবাহিত রোগ। জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদি পানির মাধ্যমে ছড়ায়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এসব রোগ জীবনঘাতী হতে পারে।

পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১৩৭তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. কামাল সৈয়দ আহমেদ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি বিআরবি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : আমরা আসলে এগুলো কীভাবে প্রতিরোধ করতে পারি?উত্তর : শহরে যে পানির সাপ্লাই পাই, সেটি পিওর ছিল। তবে দুঃখজনকভাবে পরিবহনের পাইপে যদি কোনো লিক থাকে, তাহলে পাইপ থেকে ধুলা-বালু, জীবাণু সব ঢুকে যাবে। এ জন্য আমি বলব, নিরাপত্তার কারণে যদিও সাপ্লাইয়ের পানি পান করে থাকেন, তবে সিদ্ধ না করে পান করবেন না। ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে যেকোনো পানি যদি আমরা ৩০ মিনিট সিদ্ধ করে পান করি, তাহলে সব ধরনের প্রচলিত ব্যাকটেরিয়া মরে যাবে। কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত কারণে ডায়রিয়া হবে না।প্রশ্ন : টাইফয়েড, জন্ডিস এই ধরনের রোগগুলোতে পরামর্শ কী?
উত্তর : এ ধরনের রোগগুলো পানিবাহিত জীবাণুর কারণে হয়। এগুলো প্রতিরোধের জন্য আমাদের একই কাজ করতে হবে। রাস্তাঘাটে পানি পান করব না। চটপটি, ফুসকার সঙ্গে পানি দিচ্ছে, আখের রস বানিয়ে দিচ্ছে, এগুলো থেকে কিন্তু জন্ডিস, ডায়রিয়া হয়। আমরা রাস্তায় কোনো সস্তা পানি পান করব না, জুস পান করব না। এমনকি ডাবের পানি পানের বিষয়ে সতর্ক থাকব। কারণ, আজকাল শোনা যাচ্ছে ডাবের পানির ভেতর সিরিঞ্জ ঢুকিয়ে দূষিত করে দিচ্ছে। রাস্তার যেকোনো খাবার খাওয়ার বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।প্রশ্ন : টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে পরামর্শ কী?উত্তর : প্রথম কথা হলো, সাত দিনের আগে আপনি টাইফয়েডের কথা চিন্তা করবেন না। জ্বর যদি সাত দিনের বেশি হয়, তখন আমরা ভাবব, এটি টাইফয়েড হতে পারে। কারণ, ওষুধ না খেলে সাত দিন বা ১০ দিনের আগে কমবে না। ওষুধ খেলেও অনেক সময় ৭ থেকে ১০ দিন লেগে যায়। অতএব, কোনো জ্বর যদি থাকে সঙ্গে সঙ্গে টাইফয়েড চিন্তা করবেন না। উঠছে ১০৩ থেকে ১০৪, আবার ১০০ নামছে, আবার উঠছে। তখনই আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। টাইফয়েড জ্বরের আরো কিছু লক্ষণ থাকে। খাওয়ার অরুচি থাকে। টাইফয়েড জ্বরে বাউয়েল মুভমেন্টের সমস্যা হয়। প্রথম সপ্তাহে থাকব কোষ্ঠকাঠিন্য, আর দ্বিতীয়, তৃতীয় সপ্তাহে আবার ডায়রিয়া তৈরি হবে। এসব উপসর্গ যদি থাকে, এক সপ্তাহ জ্বর যদি পার হয়ে যায়, তাহলে আপনি সন্দেহ করতে পারেন টাইফয়েড হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে আপনি দক্ষ চিকিৎসকের কাছে যাবেন।প্রশ্ন : জন্ডিসের কী সমস্যা হতে পারে?উত্তর : এটি দূষিত পানি পানের জন্য হয়। তবে জন্ডিস কিন্তু চট করে হয় না। সাধারণত এক থেকে সাত দিন সময় লাগে জন্ডিসের উপসর্গটা বের করতে। এর আগে রোগীর তিন/ চার দিনের মাথায় খাবার অরুচি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বমির ভাব হয়, বমি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জয়েন্টেও ব্যথা হতে পারে। খুব প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্রাবের রংটা একটু পরিবর্তন হতে পারে। প্রস্রাবের রং যখন হলুদ হয়ে গেছে আমি ব্যক্তিকে বলব, জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে।