ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনও অ্যানালগ চিকিৎসা খাত

http://news.zoombangla.com/ডিজিটাল-বাংলাদেশে-এখনও-অ/
April 17, 2018
এম রহমান: ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনও অ্যানালগ পদ্ধতিতেই চলছে দেশের চিকিৎসা সেবা খাত। তাই সেবামূলক এই খাতে সেবাগ্রহীতারা পদে পদে বিড়ম্বনার শিকার হয়ে চলেছেন। আর গাঁটের পয়সা খরচ করেও কোথাও মিলছেনা সঠিক ও সুচিকিৎসা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চিকিৎসার এমন বেহাল দশা হওয়ার প্রধান কারণ হলো এ খাত এখনও অবধি পুরোপুরি ডিজিটাল হতে না পারা। ডাক্তাররা আদিযুগ থেকে যেভাবে প্রেসক্রিপশন লিখতেন এখনও সেভাবেই হাতে লিখে থাকেন। অথচ উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশেও সেটি কম্পিউটারে প্রিন্ট আউট পেপারের মাধ্যমে দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ও বিশিষ্ট নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমাকেও ভাবিয়ে তোলে। বিশেষ করে কিছু ‍কিছু ডাক্তারের হাতের লেকা এতটাই বাজে হয় যে ফার্মেসিওয়ালারাও সে লেখা বুঝতে পারেনা।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসএমএমইউ-র অন্য একজন ডাক্তার জুমবাংলাকে  বলেন, ‘আমাদের দেশের চিকিৎসা খাতে সবচেয়ে দু:শ্চিন্তার বিষয় হলো ‘বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার’! প্রযুক্তি ও যন্ত্রের মেলবন্ধনের কাজটি মূলত করেন এই বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়াররাই। অথচ সেই ব্যবস্থাপনাও এখনও অবধি নেই আমাদের। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং হল সেই সাবজেক্ট যা মেডিক্যাল সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর মধ্যে যে বিস্তর ফারাক তা দূর করেছে।বলা হয়ে থাকে যেখানে ডাক্তারদের সামর্থ্য শেষ সেখানেই বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ শুরু। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের ছাড়া কখনোই চিকিৎসা বাবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয় ’।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়াররা মূলত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র, পরীক্ষাগার ও অস্ত্রোপচার কক্ষে ব্যবহূত ভারী যন্ত্র থেকে শুরু করে কৃত্রিম অঙ্গ, যান্ত্রিক প্রত্যঙ্গ এবং পেসমেকার ও ডায়াফ্রামের মতো শরীরে স্থাপনযোগ্য স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। কিন্তু আমাদের চিকিৎসা খাতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার না থাকার কারণে পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য প্রয়োজন একজন বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার। সে হিসাবে বাংলাদেশে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা ১৬ হাজারের উপরে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে এ পদে সনদধারী রয়েছেন মাত্র একজন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে-  ল্যাথল্যাব, এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রগুলো বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার ও ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের অনুপস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদিওবা সেটি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে অত্যাধুনিক মেশিনপত্র আনা হলেও বায়োমেডিকেল বা ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই সেসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

তাছাড়া দেশের বেশির ভাগ হাসপাতালে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কোনো পদও রাখা হয়নি।  তবে এ বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টটি দেশের কয়েকটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মতে, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহূত প্রযুক্তি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জটিল জীবনীচক্র বুঝতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়াররা যে অন্তর্দৃষ্টি জোগাতে পারেন, তার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র কেনা হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় যন্ত্র থাকলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোয় এ সমস্যা প্রকট।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খুব শিগগিরিই দেশে এ-সংক্রান্ত পদ সৃষ্টি করা হবে।চিকিৎসার ক্ষেত্রে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার না থাকার কারণে আমাদের দেশের অনেক হাসপাতালে শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে রয়েছে। এসব কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) ৫৪৯টি পদ তৈরি করার কাজ করছে ’।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ত্রোপচারের আগেরদিন প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে রাখতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা জরুরি। তা না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশের চিকিৎসা খাত অ্যানালগই রয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতে ৪০ হাজার, জাপানে ৭৫ হাজার, ফিনল্যান্ডে তিনজন, মালয়েশিয়ায় ২৫০, ইন্দোনেশিয়ায় ২ হাজার ৫০০, মালদ্বীপে ছয়জন, শ্রীলংকায় তিনজন, ভুটানে তিনজন এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে একজন করে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন।

66SHARESShareTweet

প্রতিদিনের খবর পড়ুন আপনার ই-মেইল থেকে